
আলমগীর আলম , পটিয়া।
পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ বছর কাঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার শ্রিমাই, হাইদগাঁও, খরনা, কমল মুন্সিরহাট, কচুয়াইসহ বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে সারি সারি কাঠাল গাছে ঝুলতে দেখা যাচ্ছে অসংখ্য কাঁঠাল।
মৌসুমের শুরুতেই এমন ফলনে খুশি স্থানীয় কৃষক ও বাগান মালিকরা।
স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা যায়, অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় এ বছর কাঠালের ফলন গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে।
অনেক গাছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি ফল ধরেছে, যা কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পটিয়ার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও পাহাড়ি এলাকায় গেলে চোখে পড়ে কাঠালে ভরা গাছের সারি।
অনেক বাগানে ইতোমধ্যে কাঠাল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাজারগুলোতেও ধীরে ধীরে দেশীয় এই সুস্বাদু ফলের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।
কৃষক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, “আমার কাঠাল বাগানে এবার সর্বোচ্চ পরিমাণ কাঠাল ধরেছে। বাজারে দাম খুব বেশি না হলেও ভালো মানের কাঠাল পাচ্ছি, এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।
ফলন ভালো হওয়ায় খরচ উঠিয়ে লাভের আশা করছি।”
আরেক বাগান মালিক মোহাম্মদ রিয়াদ জানান, গত কয়েক বছর আবহাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায়নি।
তবে এ বছর গাছে গাছে কাঠাল ধরায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি ফল।
সঠিক পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বৃদ্ধি করা গেলে এ অঞ্চলের কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন। পাশাপাশি কাঠালভিত্তিক বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে উঠলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে।
এদিকে বাম্পার ফলনের খবরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বেশ আশাবাদী।
তারা মনে করছেন, উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন বাজারেও পটিয়ার কাঠালের সরবরাহ বাড়বে।
সব মিলিয়ে এ বছরের কাঠালের বাম্পার ফলন পটিয়ার কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। প্রকৃতির আশীর্বাদ আর কৃষকদের পরিশ্রমে সমৃদ্ধ হয়েছে উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতি, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply