
পটিয়া প্রতিনিধি।
হঠাৎ বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য বৃদ্ধি এবং প্রি-পেইড মিটারে নতুন ট্যারিফ কার্যকরের পর চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পটিয়ার হাজারো গ্রাহক। বিদ্যুতের দাম বাড়ার পর মিটার রিচার্জ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেওয়ায় প্রতিদিনই পটিয়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কার্যালয়ে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রিচার্জ করলে যে পরিমাণ ইউনিট পাওয়া যেত, বর্তমানে একই পরিমাণ টাকায় অনেক কম ইউনিট পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি রিচার্জকৃত টোকেন নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে অনেকেই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। একটি টোকেনের বিপরীতে প্রায় ২৪০ থেকে ৩০০ সংখ্যার কোড মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে সাধারণ গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
বিশেষ করে বয়স্ক ও প্রযুক্তি সম্পর্কে কম ধারণাসম্পন্ন গ্রাহকদের জন্য বিষয়টি আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বারবার নম্বর প্রবেশ করেও সফল না হওয়ায় বিদ্যুৎ অফিসে এসে কর্মকর্তাদের সহায়তা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে প্রতিদিনই অফিস প্রাঙ্গণে দীর্ঘ লাইন ও গ্রাহকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।
পটিয়া পৌরসভার একাধিক গ্রাহক জানান, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এমনিতেই তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তার ওপর দীর্ঘ টোকেন কোড প্রবেশের ঝামেলা ও রিচার্জ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান এবং প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান।
এদিকে বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, নতুন ট্যারিফ ও প্রযুক্তিগত হালনাগাদের কারণে কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘ টোকেন নম্বর ব্যবহারের প্রয়োজন হচ্ছে। গ্রাহকদের সমস্যা সমাধানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ও প্রি-পেইড মিটারের জটিলতা নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে সচেতনতামূলক প্রচার এবং সহজ সমাধান ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
বর্তমানে পটিয়া বিদ্যুৎ অফিসে প্রতিদিন শত শত গ্রাহক বিভিন্ন অভিযোগ ও টোকেন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান খুঁজতে ভিড় করছেন। ফলে জনমনে অসন্তোষ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
Leave a Reply