
মোঃ মনিরুল ইসলাম রিয়াদ
স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানা এলাকার নোয়াপাড়া, জোলাপাড়া, আজমনগর, পাহাড়তলী বাজার,রেললাইন সংলগ্ন এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় এবার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় সমাজপতি, সুধীজন ও সচেতন নাগরিকরা।
সম্প্রতি নোয়াপাড়ায় সমাজপতিদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অবিলম্বে মাদক ব্যবসা বন্ধ না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে এলাকায় সক্রিয় চিহ্নিত মাদক কারবারিদের দ্রুত এলাকা ছেড়ে যাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করেন, নোয়াপাড়া, জোলাপাড়া, আজমনগর রেললাইন পাহাড়তলী বাজার এলাকা এবং আশপাশে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে মাদক ব্যবসা বিস্তার লাভ করেছে। এর ফলে চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষ দিন দিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চিহ্নিত মাদক কারবারিরা প্রকাশ্যে সক্রিয় থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে এবং এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধেরও অবক্ষয় ঘটছে।
উঠান বৈঠকে নোয়াপাড়া সমাজের নির্বাচিত সমাজপতিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষিত তরুণ, ব্যবসায়ী, অভিভাবক ও শত শত সচেতন নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সবাই একমত পোষণ করে বলেন, “আমাদের এলাকায় কোনো ধরনের মাদক বেচাকেনা আর চলতে দেওয়া হবে না। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”বৈঠকে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়। তাই কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা তাদের সহযোগীদের আর কোনো ধরনের সামাজিক প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি, মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর অভিযান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করবে।বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় চিকিৎসক এক ডাক্তার বলেন,”মাদকাসক্তি একটি ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন কিংবা অন্যান্য মাদক একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ধ্বংস করে দেয়। বিশেষ করে তরুণরা একবার মাদকে জড়িয়ে পড়লে শিক্ষা, কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাদকের সঙ্গে চুরি, ছিনতাই, সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধের সম্পর্কও গভীর। তাই শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগেই মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
সভা শেষে এলাকাবাসী ঘোষণা দেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের এই আন্দোলন চলমান থাকবে এবং এলাকার প্রতিটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নোয়াপাড়াসহ আশপাশের এলাকাকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতিও দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
Leave a Reply