
১০ মার্চ আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এপেক্সের জন্য এক গৌরবময় দিন। ২০২৬ সালে এপেক্স তার ৯৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। প্রায় এক শতাব্দীর এই দীর্ঘ পথচলায় এপেক্স শুধু একটি সংগঠন হিসেবেই নয়, বরং সেবা, নাগরিকত্ব ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য মানবিক আন্দোলন হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে।
১৯৩১ সালের ১০ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার জিলং শহরে তিনজন দূরদর্শী ব্যক্তি—ইওয়ান লেয়ার্ড, ল্যাংহাম প্রাউড এবং স্যার জন বুকান—তরুণদের মানবসেবা ও সামাজিক নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে এপেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। সেই ছোট্ট উদ্যোগই আজ আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত একটি শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশে এপেক্স ক্লাব সক্রিয়ভাবে সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এপেক্সের মূল দর্শন তিনটি আদর্শে প্রতিষ্ঠিত—Service, Citizenship এবং Fellowship। এই তিনটি স্তম্ভ তরুণদের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ করে এবং মানুষকে সাহায্য করার জন্য প্রেরণা যোগায়। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করাই এপেক্সের মূল চেতনা।
বাংলাদেশে এপেক্সের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬১ সালে। দেশের তরুণদের মধ্যে এই সেবামূলক আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দেন ইঞ্জিনিয়ার সুলেমান খান। তাঁর উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এপেক্স ক্লাব গড়ে ওঠে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৫৫টি ক্লাব এবং প্রায় ৪,৭০০ অ্যাপেক্সিয়ান সক্রিয়ভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ত্রাণ এবং সমাজ উন্নয়নের কাজে যুক্ত আছেন।
এপেক্স ক্লাবগুলোর বিশেষত্ব হলো স্থানীয় সমস্যার সমাধানে স্থানীয় উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া। ফলে প্রতিটি ক্লাব তাদের নিজস্ব সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করে। এই বিকেন্দ্রীভূত কিন্তু আদর্শনির্ভর কাঠামোই এপেক্সকে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর এবং প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে।
৯৫ বছরের এই যাত্রা শুধু গৌরবের কথা মনে করিয়ে দেয় না; নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্বও স্মরণ করায়। সামাজিক বৈষম্য, পরিবেশ সংকট এবং মানবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ নেতৃত্ব ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ অপরিহার্য। এপেক্স সেই নেতৃত্ব গড়ে তোলার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।
এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এপেক্সের প্রতিষ্ঠাতা তিনজনকে এবং কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি ইঞ্জিনিয়ার সুলেমান খানকে, যিনি বাংলাদেশে এপেক্স আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করেছেন।
প্রায় এক শতাব্দীর পথ পেরিয়েও এপেক্স আজও একই আদর্শে উজ্জ্বল—মানুষের সেবা, দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে। আগামী দিনেও এই আলোকবর্তিকা নতুন প্রজন্মকে মানবতার পথে অনুপ্রাণিত করবে।
সৈয়দ মিয়া হাসান
জেলা গভর্নর–৩
এপেক্স বাংলাদেশ
Leave a Reply