
মোঃ বজলুর রহমান, ঈদগাঁও
কক্সবাজর জেলা ঈদগাঁও উপজেলার সর্ববৃহৎ বানিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারের আশপাশ এলাকা প্রতিবছর অগ্নিকান্ডে লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয় । অনেক বছর আগ থেকে ফায়ার সার্ভিস স্থাপনের দাবী জানিয়ে আসলেও তা এখনো স্থাাপনের কোন কার্যকরী পদক্ষেপ দেখছেনা ঈদগাঁওবাসী।
ঈদগাঁও উপজেলা ঘোষণা করা হলেও এখনো জনগণের প্রয়োজনে যে সব কিছু প্রয়োজন তা এখনো স্থাপন করা হয়নি।
যেমন ফায়ার সার্ভিস, সরকারি হাসপাতাল, এসিল্যান্ড অফিস সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ।
ঈদগাঁও উপজেলা থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরবর্তী পর্যটন শহর কক্সবাজার কিংবা চকরিয়া থেকে দমকল বাহিনী আসার আগেই অগ্নিকান্ড কবলিত এলাকা পুড়ে সব কিছু আঙ্গার হয়ে যায়।
প্রতিবছর কোন না কোন সময় কক্সবাজার জেলার সর্ববৃহৎ বানিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারে আগুন লেগে কোটি কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়, ফায়ার সার্ভিস আসতে আসতে এলাকার সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যম কর্মী, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহ সবাই মিলে নিজেদের সাধ্যমত আগুন নিভাতে চেষ্টা করে, অনেক সময় দেখা যায় সাধারণ মানুষ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নিভাতে ঝাপিয়ে পড়ে।
ঈদগাঁও উপজেলার গণমানুষের দাবীকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সর্ব প্রথম ফায়ার সার্ভিস স্থাপনের প্রতি আহবান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট।
ঈদগাঁও ইউনিয়ন,পোকখালী,জালালাবাদ,ইসলামাবাদ, ইসলামপুর,চৌফলদন্ডী ও ঈদগাঁওর প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলে বসতবাড়ী বা দোকানসহ শত বছরের দলিল পত্র, অন্যান্য জিনিসপত্র অগ্নিকান্ডে ধংস হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস বাস্তবায়নে দীর্ঘকাল সময়ে ঈদগাঁওবাসী, আন্দোলন সংগ্রাম করেও আজ অবধি পর্যন্ত কোন কিছু হয়নি। ঈদগাঁওবাসীর স্বপ্ন যেন স্বপ্নই থেকে গেল। সেই দাবী বাস্তবায়নে এলাকার জনসাধারণ, ইমাম সমিতি, আলেম-উলামা, গণমাধ্যম কর্মী, স্বেচ্ছা সেবী সংগঠন বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে আসছে ।
কিন্তু দীর্ঘবছরেও কাজের কাজ কিছু না হওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী। হয়তো উপজেলা বাস্তবায়নে প্রথম পদক্ষেপ ফায়ার সার্ভিস স্থাপন হতে পারে বলে ঈদগাঁওবাসী আশাবাদী।
দক্ষিন চট্রলার দ্বিতীয় বানিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারসহ কোন এলাকায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেই দূরর্বতী থেকে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা কখনো সম্ভব নয়। ঐখান থেকে দমকল এসে আগুন নিভানোর পূর্বেই সব কিছু পুড়ে আঙ্গার হয়ে যায়। বিগত বহু বছরের ব্যবধানে অসংখ্য দরিদ্র পরিবার অগ্নিকান্ডে সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। সদরের গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্যিক এলাকাখ্যাত ঈদগাঁও বাজারে ব্যাংক বীমা ও ব্যবসায়ীক লেনদেনসহ দোকানপাঠ, ঘর বাড়ী এবং জনবসতি তুলনামূলক ভাবে বেশী,যার কারণে সব কিছুর আগেই একটা ফায়ার সার্ভিস স্থাপন খুবই গুরুত্ব।
বিভিন্ন সময়ে অগ্নিকান্ডের শিকার কজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জনা যায়, একজন খুদ্র ব্যবসায়ী একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাড়করাতে বিভিন্ন এনজিও/ব্যাংক থেকে লোন নিতে হয়।
সেই লোন পরিশোধ করতে না করতে বিভিন্ন সময় আকস্মিক আগুন দূর্ঘটনায় সব কিছু পুড়ে শেষ হয়ে যায় এবং বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি সম্মুখীন হতে হয়।
ঈদগাঁও বাজারে এমনও ব্যবসায়ী আছে যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যায়।
এই ধরণের দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত সময়ে ঈদগাঁওতে ফায়ার সার্ভিস স্থাপন একান্ত প্রয়োজন ।
ফায়ার সার্ভিস স্থাপন হলে ঈদগাঁওবাসী প্রতিবছর আগুন আতঙ্ক থেকে বাচঁবে এবং কোটি কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি থেকে ঈদগাঁও বাজার বাসী রক্ষা পাবে।
Leave a Reply