
মোঃ মনিরুল ইসলাম রিয়াদ স্টাফ রিপোর্টার
রোজা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়, হাটহাজারীর ইফতার মাহফিলে বক্তাদের গুরুত্বারোপ
হাটহাজারীতে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখছেন মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সবুর, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুর ও প্রফেসর ড. জালাল আহমদ।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা এলাকায় মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকাল ৩টা থেকে উপজেলার পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এ মাহফিলে ধর্মীয় ও সামাজিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং রোজার তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ হাটহাজারী ফটিকছড়ি সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ ইফতার মাহফিল খলিলুল্লাহ,আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রাসূল হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বেলাদাত শরীফ স্মরণে এবং এ দরবারের মহীয়সী রমণী জামানার রাবেয়া বসরী ফাতেমায়ে ছানী আলহাজ্বা রুহানী আম্মাজান রহমাতুল্লাহি আলাইহার ইছালে ছাওয়াব উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ,আলেম উলামা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সংগঠনের মহাসচিব মোঃ আবু মনসুর। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জালাল আহমেদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।
ইফতার মাহফিলে বক্তারা বলেন,পবিত্র মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের মাস।এ মাসে রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে এবং নিজের চরিত্র ও আচরণকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ পায়।রোজা শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়,বরং এটি মানুষকে সব ধরনের অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়।
বক্তারা আরও বলেন,সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একজন রোজাদারকে আল্লাহর অন্যান্য নির্দেশ পালনের পাশাপাশি বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত,দরূদ শরীফ পাঠ, মোরাকাবা,তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় এবং আল্লাহর জিকিরে মনোযোগী হতে হবে।এসব নফল ইবাদত মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য বৃদ্ধি করে।
তারা বলেন, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম উপায় হলো নফল ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর স্মরণে অধিক সময় ব্যয় করা। যারা নিয়মিত ইবাদত বন্দেগিতে অভ্যস্ত হন, আল্লাহ তাদেরকে নিজের প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করেন এবং তাদের জীবনে রহমত ও বরকত নাজিল করেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন,খলিফায়ে রাসূল কাগতিয়ার গাউছুল আজম প্রতিষ্ঠিত দরবারের অনুসারীদের শরীয়তের বিধান মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত সহস্রাধিকবার দরূদ শরীফ পাঠ, মোরাকাবা, শেষরাতে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় এবং জিকিরে জলি করার শিক্ষা দেওয়া হয়। এসব আমলের মাধ্যমে মানুষের আত্মিক উন্নতি ঘটে এবং সমাজে নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার বিকাশ ঘটে।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও বিভ্রান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তরুণ সমাজকে ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। রমজান মাস এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যদি তরুণ প্রজন্ম এই মাসের শিক্ষা গ্রহণ করে, তাহলে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, মুসলমানদের জীবনে রমজান একটি বিশেষ নেয়ামত। এ মাসে ইবাদতের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের দোয়া আল্লাহর দরবারে দ্রুত কবুল হয়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এ মাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো এবং ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল হাসান তকি, মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সবুর, মাওলানা মুহাম্মদ ফোরকান এবং মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম রাব্বানী ফয়সাল। বক্তারা তাদের বক্তব্যে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং মুসলমানদের নৈতিক জীবন গঠনে রমজানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক,ধর্মীয় , এলাকাবাসী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ,সৌহার্দ্য ও ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত মুসল্লিরা বলেন,রমজান মাসে এ ধরনের ধর্মীয় আলোচনা ও ইফতার আয়োজন মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগিয়ে তোলে এবং সমাজে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
ইফতারের পূর্বে মিলাদ ও কিয়াম অনুষ্ঠিত হয়।পরে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ,শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করা হয়। মুনাজাতে মুসলিম বিশ্বের শান্তি, দেশের কল্যাণ এবং মানবজাতির মঙ্গল কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে যাতে সমাজে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
Leave a Reply