
বীর প্রসবিনী পটিয়ার অহংকার জনাবা রহমতুন্নেছা। ৮০ বছর বয়সী এই প্রবীণ নাগরিক শুধু একজন মা-ই নন, তিনি পটিয়ার শিক্ষা ও সমাজের এক জীবন্ত ইতিহাস।
জন্ম ১ এপ্রিল ১৯৪৬ ইংরেজি পটিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। বাবার নাম মরহুম কাজী আজিজুল ইসলাম প্রকাশ বড় ফকির। স্বামী – মরহুম আবদুন নুর (পেশকার) অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। বর্তমান ঠিকানা – পটিয়া পৌরসভার সুচক্রদন্ডী ২ নং ওয়ার্ড।
শিক্ষাজীবন:
সেই ৬০-এর দশকে যখন মেয়েদের পড়াশোনা ছিল কঠিন, তখন তিনি আলো ছড়িয়েছেন। পটিয়া শশাঙ্কমালা প্রাইমারি স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা। পটিয়া গার্লস হাই স্কুল— বর্তমানে আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে ম্যাট্রিক ও চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ১৯৬৪ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন।
একজন নারী হয়ে ষাটের দশকে ম্যাট্রিক-ইন্টার পাস করা চাট্টিখানি কথা নয়। তিনি ছিলেন সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা এক সাহসী নারী।
পেশা ও সমাজসেবা:
তিনি একজন হোমিও চিকিৎসক। নিজের জ্ঞান দিয়ে সারাজীবন মানুষের সেবা করে গেছেন। টাকা নয়, মানুষের দোয়াই ছিল তাঁর প্রাপ্তি।
গর্বিত মা রত্নের জননী:
এমন একজন জ্ঞানী, সাহসী ও মানবিক মায়ের গর্ভেই জন্ম নিয়েছেন তিন পুত্রসন্তান দুই কন্যা সন্তান। দুই মেয়েদের মধ্যে বড় কন্যা – অধ্যাপিক শামীমা আক্তার, কনিষ্ঠা কন্যা অধ্যাপিকা সেলিনা আক্তার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে দুইজনেই স্বনামধন্য চন্দনাইশ আমানতছফা বদরুন্নেসা কলেজ, পটিয়া খলিলুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজ এ শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত ।
তিন ছেলেদের মধ্যে বড় সন্তান সাখাওয়াত হোসেন, দ্বিতীয় সন্তান সাজ্জাদ হোসেন সুমন, ছোট সন্তান শাহাদাত হোসেন রানা
সাজ্জাদ হোসেন সুমন — ওস্তাদ দিলদার হাসান দিলু স্যারের প্রথম ব্ল্যাক বেল্টধারী ছাত্র, ডায়মন্ড মার্শাল আর্টের অভিভাবক, সফল ব্যবসায়ী ও মানবিক ব্যক্তিত্ব। পটিয়ার গর্ব।
শাহাদাত হোসেন রানা — সামাজিক সচেতন একজন ব্যক্তি, যিনি সবসময় প্রিয় ক্যাম্পাস ও বিদ্যাপীঠের নিরাপত্তা ও মঙ্গল কামনা করেন।
কথায় আছে, “যে মা জ্ঞানী, সে জাতি জ্ঞানী”। রহমতুন্নেছা মায়ের মতো রত্নগর্ভারা আছেন বলেই পটিয়ার ঘরে ঘরে সাজ্জাদ সুমন ও শাহাদাত রানাদের জন্ম হয়। মায়ের আদর্শ, শিক্ষা আর দোয়াতেই আজ তাঁরা হাজারো মানুষের অনুপ্রেরণা।
রত্নগর্ভা মায়ের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করি। আল্লাহ উনাকে এবং উনার সন্তানকে সবসময় ভালো রাখুন। একজন মা, একজন শিক্ষিকা, একজন চিকিৎসক, গর্বিত সন্তানের জননী — তিনি আমাদের সবার গর্ব।
লেখকঃ শুভাকাঙ্ক্ষী
Leave a Reply