
বেকারত্ব আজ আমাদের দেশের জন্য এক গভীর সংকট। শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত উভয় শ্রেণির মানুষের মধ্যেই বেকারত্বের হার বাড়ছে। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করলেও, তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে তরুণরা দীর্ঘদিন কর্মহীন থেকে হতাশায় ভুগছে, অনেকে ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে।
বেকারত্বের ভয়াবহ প্রভাব শুধু অর্থনৈতিক সংকটে সীমাবদ্ধ নয় এটি সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়েরও কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আজ অনেক তরুণ কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশ হয়ে অনলাইন জুয়ার মতো ভয়ানক নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভনে তারা দিনের পর দিন মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দায় সময় নষ্ট করছে, ঋণগ্রস্ত হচ্ছে, এবং শেষ পর্যন্ত সর্বস্ব হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয়, কিছু তরুণ বেকারত্বের সুযোগে প্রতারণা, চাঁদাবাজি, সাইবার ক্রাইমসহ নানা অপরাধমূলক পথে পা বাড়াচ্ছে। একসময় যারা ছিল সম্ভাবনাময়, তারাই আজ সমাজের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন তরুণদের জন্য বিকল্প ও সৃজনশীল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতার প্রসার, এবং অনলাইন জুয়া ও প্রতারণামূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ।
বেকারত্ব যেন সমাজে বিষফোঁড়া হয়ে না দাঁড়ায়, বরং সঠিক পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের মাধ্যমে কল্যাণকর কিছুতে রূপ নেয় এজন্য এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা অনেক তরুণকে গভীর হতাশা ও মানসিক চাপে ঠেলে দিচ্ছে। কেউ কেউ এমন পরিস্থিতিতে আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা শুধু একটি পরিবার নয় পুরো সমাজের জন্য বড় হুমকি। প্রতিটি তরুণই একটি সম্ভাবনার ভাণ্ডার। তাদের এই সম্ভাবনাকে নষ্ট হতে না দিয়ে, রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা তৈরি, এবং মানসিক সহায়তা এই চারটি দিককে সমান গুরুত্ব দিলে বেকারত্বকে বিপদ থেকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করা সম্ভব।
মনে রাখতে হবে, একজন তরুণের জীবন বাঁচানো মানে ভবিষ্যতের জন্য একটি উজ্জ্বল প্রদীপ জ্বালিয়ে দেওয়া। একজন তরুণ হারিয়ে যাওয়া মানে হারিয়ে যাওয়া এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ।
বেকারত্ব বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে শিল্প ও উৎপাদন খাতের সীমিত বিস্তার, দক্ষতা উন্নয়নের ঘাটতি, কর্মসংস্থানে বৈষম্য, এবং প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে কিছু খাতে মানবসম্পদের চাহিদা কমে যাওয়া।
এই সংকট সমাধানে প্রয়োজন দেশের উৎপাদনশীল খাতকে শক্তিশালী করা, উদ্যোক্তা তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসার ঘটানো, এবং যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা করা। মনে রাখতে হবে, কর্মসংস্থান শুধু অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্যও অপরিহার্য। বেকারত্ব সমাজে দারিদ্রতার হার বাড়ায়। বেকারত্বের সমস্যা দূর করতে সচেতন মহল-কে এগিয়ে আসতে হবে। একটি দীর্ঘমেয়াদী কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে। তাহলে আমাদের দেশে বেকারত্বের হার হ্রাস পাবে।
আলেম ও লেখক।
Leave a Reply