
আলমগীর আলম, পটিয়া।
বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সেখানকার মানুষের মন জয় করা ছিল পটিয়ার মেয়ে বৃষ্টি দে ও তাঁর দল ‘টিম বৃষ্টি’র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভারতের মানুষের ভালোবাসা ও গুণীজনদের সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশের পরিচিত ধর্মীয় ও দেশাত্মবোধক গানের শিল্পী বৃষ্টি দে। তাঁর এই অর্জনে আনন্দিত পরিবারের সদস্য, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভারতের মাধবপুরে বৃষ্টি দে ও তাঁর দলের সংগীত পরিবেশনা ঘিরে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। বৃষ্টি দের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের গান শুনতে সেখানে লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। বিপুলসংখ্যক শ্রোতার উপস্থিতি ও ভালোবাসাকে তিনি পুরো দলের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন।
মাধবপুরের অনুষ্ঠান শেষে ভারতের হাইলাকান্দি বিধানসভা এলাকায় টিম বৃষ্টিকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক ড. মিলন দাসসহ স্থানীয় গুণীজনেরা। এ সময় নাগা কমিটি ও রিয়াং কমিটির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক উপহার দিয়ে টিম বৃষ্টিকে সম্মান জানান।
ভারতে পাওয়া এই সম্মান ও ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত বৃষ্টি দে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে এসে ভারতের মানুষের মন জয় করতে পারব কি না, তা আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। মাধবপুরে আমাদের গান শুনতে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি সত্যিই প্রশংসনীয়। হাইলাকান্দিতে গুণীজনদের উপস্থিতিতে আমাদের যেভাবে সংবর্ধনা ও সম্মান জানানো হয়েছে, তা পুরো টিমের জন্য অনেক আবেগের মুহূর্ত। এই সম্মান আজীবন মনে রাখব।”
বৃষ্টি দের ভাই আকাশ দে বলেন, “ভারতের মাটিতে আমাদের দলকে এত বড় পরিসরে সংবর্ধনা ও সম্মান জানানো হয়েছে, এটি আমাদের পরিবারের জন্যও গর্বের বিষয়। দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসা এবং গুণীজনদের এই স্বীকৃতি আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা চাই, সংগীতের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হোক।”
ধর্মীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া বৃষ্টি দে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। দেশের বাইরে বাংলা গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানো এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে সম্মাননা পাওয়া তাঁর সংগীতজীবনে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পটিয়ার এই শিল্পীর ভারতের সফর ও সংবর্ধনার খবর স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও আগ্রহ তৈরি করেছে। সংগীতের মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি ও পরিচিতি তুলে ধরার এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শিল্পীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ জোগাবে বলে আশা তাঁর ভক্তদের।
Leave a Reply