
চট্টগ্রাম, ১ অক্টোবর ২০২৬: চট্টগ্রাম মহানগরীর মাস্টারপ্ল্যান (২০২৫–২০৫০) প্রণয়নে নগরীর প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের মতামত ও স্থানীয় বাস্তবতা অন্তর্ভুক্ত করতে অংশগ্রহণমূলক দ্রুত মূল্যায়ন (Participatory Rapid Appraisal–PRA) কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজারস্থ পিটস্টপ রেস্টুরেন্টে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী কর্মশালার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়। PRA বাস্তবায়নে সহায়তা করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন ইপসা।
উদ্বোধনী কর্মশালায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর, ৮ নম্বর শুলকবহর, ১৪ নম্বর লালখান বাজার ও ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিডিএ মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আবু ঈসা আনছারী, ইপসার পরিচালক (সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট) নাছিম বানু, মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার ড.নুরুল হাসান প্রমুখ। ইপসার পক্ষ থেকে PRA কর্মশালা পরিচালনার পরিকল্পনা ও কৌশল বিষয়ে আলোচনা করেন ইপসার আরবান রেজিলিয়েন্স ফোকাল সানজিদা আক্তার । অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইপসার প্রকল্প কর্মকর্তা মুহাম্মদ আতাউল হাকিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, বিগত বছরগুলোর মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন কার্যক্রমে প্রান্তিক বা রুট লেভেল থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এ ধরনের উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ ছিল না। এবার পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সব ওয়ার্ড এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে এ কর্মশালার আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, একটি কার্যকর ও টেকসই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা, সমস্যা, প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে নগরজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দৈনন্দিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেককে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের বাসাবাড়ির আঙিনা ও ছাদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সব উপজেলা ও ওয়ার্ডের মানুষের মতামত নিয়ে আমরা একটি বাস্তবসম্মত রিপোর্ট তৈরি করতে পারব, যা আগামীর চট্টগ্রামের জন্য সময়োপযোগী ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালায় জানানো হয়, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে স্থানীয় জনগণের মতামত ও অভিজ্ঞতা সরাসরি সংগ্রহের জন্য PRA পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতামত, স্থানীয় সমস্যা, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, নাগরিক চাহিদা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা চিহ্নিত করা হবে। পরবর্তীতে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সিডিএ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডকে ১০টি ক্লাস্টারে বিভক্ত করে PRA কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগর ও এর আশপাশের সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী ও বোয়ালখালী- এই আটটি উপজেলার প্রতিনিধিদেরও এ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। মোট ২৫টি PRA কর্মশালা যার মধ্যে ২৩টি নিয়মিত এবং ২টি বিশেষ কর্মশালা, আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিটি PRA কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বা এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, আইনজীবি, সাংবাদিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রতিবন্ধী, ধর্মীয় ও অন্যান্য স্থানীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত অংশীজনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও জনবান্ধব নগর পরিকল্পনার জন্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, স্থানীয় জনগণের জীবনযাপন, নাগরিক চাহিদা, পরিবেশ, যোগাযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জনসেবা ও ভবিষ্যৎ নগরায়ণের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। PRA পদ্ধতির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কণ্ঠস্বর পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
কর্মশালায় আরও বলা হয়, জনগণের অংশগ্রহণ, স্থানীয় জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি বাস্তবভিত্তিক, সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নই এ PRA কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ চট্টগ্রাম মহানগরের পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
Leave a Reply