1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
শ্রীদাম চন্দ্রের স্মরণসভায় বক্তারা- “শিক্ষক শ্রীদাম চন্দ্র নাথ সমাজের অনুকরণীয় আদর্শ” পেকুয়ায় মসজিদের ইমাকে রাজকীয়ভাবে বিদায়ী সম্মাননা দিয়েছেন এলাকাবাসী পরিবেশ রক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি চসিক মেয়রের আলাউদ্দিন আরাফাত’র চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে আমজনতার দলের নমিনেশন পেপার সংগ্রহ ঈদগাঁও প্রেসক্লাবের ২৬ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন পানছড়িতে তিন ভারতীয় নাগরিক আটক গোপন চোরাপথে ঢুকে পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ যৌথবাহিনীর অভিযানে ধরা চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তার উপর হামলায় দুজন গ্রেফতার সিমেন্ট ক্রসিংয়ে ‘ইউথ ইউনিটি রান”শফিউল আলমকে ঘিরে তরুণদের শক্তির জাগরণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্থবায়ন প্রশিক্ষণ হিট ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম এর আয়োজনে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন সাংবাদিক রফিকুল ইসলামের মায়ের ইন্তেকাল

ছোট গল্পঃ অনিশ্চিত জীবন – কনক কুমার প্রামানিক

  • সময় বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১
  • ৭৭৪ পঠিত

অনিশ্চিত জীবন

কনক কুমার প্রামানিক
বিরামহীন আষাঢ়ের ঝমঝম বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে মমিন বাড়ি বাড়ি খবরের কাগজ বিলি করে চলেছ। আজ দুদিন ধরে বৃষ্টি ঝড়েই চলেছে। থামার কোন নামই নেই। মনে হচ্ছে আকাশটা বুঝি ফুটো হয়ে গেছে। আধভাঙা সাইকেলের কেরিয়ারে খুব যত্ন করে পলিথিন দিয়ে পেপারগুলো মুড়িয়ে রেখেছে কিন্তু বৃষ্টিতে ক্রমাগত নিজেই ভিজে যাচ্ছে সে। ঝড়,বৃষ্টি, বন্যা সব কিছুতেই বাড়ি বাড়ি খবরের কাগজ পৌঁছে দিতে হয় হকারদের। ওদের কোন ছুটি নেই, একমাত্র ঈদের দু’তিনটা বাদে। মমিন পেপার বিলি করার কাজে নতুন। বেশীদিন হয়নি এখনো কিন্তু খুব মনোযোগ সহকারে কাজটি করে সে। বিশ্বস্ত, সৎ আর শান্তশিষ্ট মমিন ছেলেটাকে সবাই খুব ভালোবাসে। শহরের একটি মেসে থাকে মমিন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খবরের কাগজ বিক্রি করে পড়াশোনা আর নিজের খরচ চালায় সে। খুব মেধাবী ছেলে, যাকে বলে গোবরে পদ্মফুল। খুব গরীব ওরা। থাকার মধ্যে বসতভিটার কুঁড়েঘর ছাড়া আর কিছু নাই। ওর বাবা মারা গেছেন অনেক বছর আগে। তখন মমিন খুব ছোট। দুই তিন বছরের হবে। এর ওর বাড়িতে কাজ করে কোন রকমে সংসার চালান মমিনের মা। সাথে চলে মমিনের পড়াশোনাও। গ্রামের স্কুলে থেকে খুব ভালো রেজাল্ট করে মাধ্যমিক পাশ করে মমিন। এই ভালো রেজাল্ট উচ্চ শিক্ষাই আরো উৎসাহী করে তোলে তাকে। এত ভালো রেজাল্ট ঐ স্কুল থেকে এর আগে কেউ করেনি। মমিনকে নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত ওর শিক্ষকরা। শিক্ষক আর বন্ধুদের সহযোগিতায় শহরের ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারে সে। পড়াশোনার পাশাপাশি দু’তিনটা টিউশানি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে নেয়। মাসে মাসে মাকেও কিছু টাকা পাঠায় সে।
বেশ চলছিল মমিনের দিনকাল। যা হোক গরীবের জন্য এটিই বেশ! দেখতে দেখতে অতিবাহিত হয়ে যায় শহরে মেস জীবনে মমিনের একটি বছর। বাধ সাধে করোনা। মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপে লন্ডভন্ড হয়ে যায় পুরো বিশ্ব। প্রথমে বন্ধ হয় মমিনের মেস তারপর ধীরে ধীরে টিউশানিগুলো। খুব দূঃচিন্তাই পড়ে যায় সে। উপায়ন্তর না দেখে গ্রাম সম্পর্কীয় এক চাচার বাসায় ওঠে সে। রহমত চাচা শহরে সংবাদপত্রের এজেন্ট। সব শুনে তিনি মমিনকে সংবাদপত্র বিক্রির কাজটি করে দেন। তখন থেকে মমিন হকার। রহমত চাচার বাসায় সে বাজার করা আর অন্যান্য টুকটাক কাজও করে দেয়। বিনিময়ে এ বাসাতে সে দিনবেলা খেতে আর থাকতে পারে। এরমধ্যে কয়েকবার সংবাদপত্রগুলোও বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। তখন একেবারে বেকার হয়ে পড়েছিলো মমিন। এরপর আবার চালু হয়ে যায়। এই করোনাকালীন সময়ে অটোপাশে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাতে পাশ হয়ে যায় তার।
বিশ্বের আর সকল দেশের মত বাংলাদেশেও করোনা তার ভয়াল থাবা বসায়। গ্রাম থেকে একদিন খবর আসে মমিনের মা করোনা পজিটিভ। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে ওর। মায়ের করোনা আক্রান্ত হবার খবর শোনা মাত্র গ্রামে পৌঁছে যায় সে। লকডাউনের সময় কোন যানবাহন না পেয়ে মমিন এতোটা পথ সাইকেল চালিয়েই মায়ের কাছে ছুটে যায় কিন্তু করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে মমিন মায়ের কাছে যেতে পারে না। দূর থেকে মাকে একনজর দেখে ফিরে আসতে হয় তাকে। মাকে অত্যন্ত ভালোবাসে মমিন। মায়ের এমন অবস্থায় পাশে থেকে সেবা শ্রশ্রুষা করতে না পারায় কষ্টে তার বুকটা কষ্ট ফেটে যায়। চোখ ফেটে অঝোরে ঝড়ে মা ছেলের চোখের জল। আসার সময় তার মাকে দেখার জন্য প্রতিবেশী এক চাচীকে খুব অনুনয় করে রাজী করে মমিন। সে চাচী প্রতিদিন দূর থেকে দরজার বাইরে খাবার রেখে যান। দিনে দু’তিন বার ফোন করে মায়ের খোঁজখবর নেয় সে। দিনে দিনে মমিনের মায়ের শরীরের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একদিন সকালবেলা মমিনের ফোনে খুব খারাপ খবর এলো। মমিনের মা গতরাতে মারা গেছেন। মমিন কিছুতেই নিজেকে শান্তনা দিতে পারছে না। বারবার মূর্ছা যাচ্ছে। রহমত চাচা মায়ের সাথে শেষ দেখা করাতে ধরাধরি করে মমিনকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সবাই দূর থেকে দেখছে। করোনা রোগী তাই কেউ কাছে আসছে না। মমিন ছুটে মায়ের কাছে যেতে চাইলে রহমত চাচা কোনরকমে তাকে ধরে আটকালেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লাশটা বাড়ির উঠোনে তেমনই পড়ে রইলো। সন্ধ্যার দিকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে কয়েকজন লোক এসে লাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে।
মা হারানোর মূহ্যমান শোকে বেশ কাতর মমিন কদিন পরে আবার শুরু করলো স্বাভাবিক সব কাজকর্ম। এ ছাড়া আর উপায় কি? সে যে খুব গরীব, বড়ই নিঃস্ব। ইচ্ছে ছিলো পড়ালেখা করে ডাক্তার হয়ে গ্রামের মানুষের পাশে থেকে সেবা করবো। অথচ নিজের মা মারা গেল বিনা চিকিৎসায়। কত স্বপ্ন ছিলো মমিনকে নিয়ে মায়ের। সবই এখন ধূসর রঙে মিলিয়ে গেছে। বড় এতিম সে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ আছে প্রায় বছর দেড়েক হলো। ভর্তি হতে সে পারেনি পরের শ্রেণিতে। ডাক্তার হতে পারবে কিনা জানে না।অনিশ্চিত জীবনের হাতছানিতে উদাস হয়ে বসে আছে সে আকাশের পানে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট