
নিজস্ব প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি উত্তর
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুর থানা সংলগ্ন গহিরা হেয়াকো সড়কের ওপর গরু চরানোর সময় গরুর সঙ্গে বাঁধা রশিতে একটি সিএনজি অটোরিকশা আটকে দুর্ঘটনায় পড়ে উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি অটোরিকশাও উল্টে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গরুর মালিক পক্ষের হামলায় তিন যাত্রী ও এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আছরের পর ভূজপুর থানা সংলগ্ন উত্তর পাশে গহিরা-হেয়াকো সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়কের ওপর অবৈধভাবে গরু চরানোর সময় একটি গরুর রশিতে চলন্ত সিএনজি অটোরিকশা আটকে যায়। এতে সিএনজিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে পড়ে। একই সময় সিএনজির সঙ্গে লেগে পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি অটোরিকশাও উল্টে যায়।
এ নিয়ে উভয় গাড়ির যাত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় গরুর মালিক পক্ষের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে গরুর মালিক ও তাদের কয়েকজন প্রতিবেশী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যাত্রীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আলী আহাম্মদ (পিতা আবুল হাসেম), মো. জিহান (পিতা মো. জামাল) ও মো. পারভেজ (পিতা আমির হোসেন) আহত হন। একই ঘটনায় এক গর্ভবতী নারী যাত্রীও আহত হয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের সঙ্গেও তর্কে জড়ান এবং গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ সময় হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করার সময় ভূজপুর থানার এএসআই মো. মিজান আহত হন। পুলিশের দাবি, হামলাকারীদের হাতে থাকা কাঁচির আঘাতে তাঁর হাতের বাহু কেটে যায়। পরে তাঁর হাতে সেলাই দেওয়া হয়েছে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মো. ফুল মিয়া (৪০), হুসাইন আহমদ গুরু (২৫) ও মোহাম্মদ নয়ন (২২) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে ফুল মিয়া ও হুসাইন আহমদ গুরু পূর্ব ভূজপুর সওদাগরপাড়া এলাকার শামছুল আলমের ছেলে এবং মোহাম্মদ নয়ন একই এলাকার আবুল আজিজের ছেলে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভূজপুর থানায় মারামারির মামলা হয়েছে। থানার মামলা নং-০৬, তারিখ ২০/০৯/২০২৬ ইং।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ভূজপুর জেনারেল হাসপাতাল, পরে নাজিরহাট ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মাথা, ঘাড়, পা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ও ফাটা জখম হয়েছে। কয়েকজনকে সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং একজনের পায়ে প্লাস্টার করা হয়েছে।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় গরুর মালিক পক্ষ পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ায় এবং গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় নিয়ে আসতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।’
তিনি আরও বলেন, ঐ ঘটনায় মারামারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অফিশিয়াল কাজ সম্পাদন করে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো
Leave a Reply