
আলমগীর আলম, পটিয়া।
দিনব্যাপি টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে পটিয়া জুড়ে।
সকাল থেকেই উপজেলায় থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সৃর্যের দেখা মেলেনি। মঙ্গলবার ও বৃষ্টি থামছে না।
এতে পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পটিয়া পৌরসভার প্রধান সড়ক, বিভিন্ন সংযোগ সড়ক ও আবাসিক এলাকার অলিগলিতে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না।
ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি।
অফিসগামী চাকরিজীবী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে কাদা ও জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ধীরগতির যান চলাচলের কারণে যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
বৃষ্টির কারণে সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশার সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক যাত্রীকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
পৌরসভার বিভিন্ন বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ব্যবসায়ী আকতার হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি দোকানে পানি ঢুকে পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, অতিবৃষ্টিতে কৃষি খাতেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আমন ধানের চারা, সবজি ক্ষেত ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ক্ষতি হতে পারে। নিম্নাঞ্চলের জমিতে পানি জমে থাকায় কৃষকরা পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শওকত আকবর অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, খাল পুনঃখনন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বছরের পর বছর এই সমস্যা স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের মতে, শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, পরিকল্পিত ড্রেনেজ উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে বর্ষা মৌসুমে পটিয়াবাসীর দুর্ভোগ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন হঠাৎ বৃষ্টির কারনে কিছু কিছু জায়গায় পানির সৃষ্টি হয়েছে বারি বৃষ্টি হলে জনসাধারণের সুবিধা অসুবিধা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
Leave a Reply