
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ, নগ্ন ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইনী সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ভুক্তভোগী নারী এই ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মামলার পর তাৎক্ষণিক অভিযানে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আফসানা আক্তার ববি (২২) সাথে ১নং আসামি মোঃ তোফাজ্জল হোসেনের (৩৬) পরিচয় হয়। তোফাজ্জল নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে ববিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং দীর্ঘ ছয়-সাত মাস প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। পরবর্তীতে গত বছরের নভেম্বর মাসে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ববির ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
অভিযোগ রয়েছে, শারীরিক মেলামেশার সময় আসামি তোফাজ্জল গোপনে ভুক্তভোগীর নগ্ন ছবি ও ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বিয়ের জন্য চাপ দিলে আসামি তাকে মারধর করে এবং বিভিন্ন সময় ধারণকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। এই অপরাধে তাকে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে ২নং আসামি মানিকের (২৭) বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী নারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে এবং বিবাদীদের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে আসক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির দ্বারস্থ হন।
সংস্থার সভাপতি ফরহাদুল হাসান মোস্তফা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন এবং সে সাথে সংস্থার প্রচার সম্পাদক মোঃ তানভীর উদ্দিন কে ভুক্তভোগীকে নিয়ে সরাসরি জোরারগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
আইনি পদক্ষেপ:
এজাহারের প্রেক্ষিতে জোরারগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(১) ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১)/৮(২)/৮(৩) ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে (মামলা নং ১০, তারিখ: ১২/০৪/২৬)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর লিটন চন্দ্র নাথ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ সক্রিয় হয়েছে এবং এর মধ্যেই ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
আসক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে পাশে থাকবেন।
Leave a Reply