
চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম মহানগরীর চাঁদগাঁও থানার পূর্ব সাধুর পাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি সার্বজনীন চলাচলের রাস্তা দখল করে স্থায়ী গেইট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকার ১৫ থেকে ২০টি সনাতনী পরিবারের প্রায় শতাধিক মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চান্দগাঁও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সাধুর পাড়ার এই রাস্তা কয়েক দশক ধরে জনসাধারণের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন তালিকায়ও এটি সার্বজনীন যাতায়াতের পথ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একইসঙ্গে অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর পানি ও গ্যাস সংযোগও এই রাস্তার নিচ দিয়ে স্থাপিত।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মৃত হরিলাল নাথ এর মেয়ে ও মেয়ের জামাই স্বপন নাথ দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী ফেলে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছিলেন। সম্প্রতি সেখানে একটি স্থায়ী গেইট নির্মাণ করে রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা বলেন,
“আমরা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। জরুরি চিকিৎসা, অগ্নিকাণ্ড কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজনেও বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, এ বিষয়ে পূর্বে আদালতের একটি রায় এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তদন্ত প্রতিবেদন রয়েছে, যেখানে রাস্তায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় মহল্লা কমিটি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে চাঁদগাঁও থানায় একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির আশঙ্কা তৈরি করা হয়। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে স্থানীয় মহল্লা কমিটির পক্ষ থেকেও লিখিত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় অবরুদ্ধ পরিবারগুলো প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আদালতের রায়, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিবেদন এবং স্থানীয়দের অভিযোগ যাচাইপূর্বক অবৈধ প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং স্বাভাবিক চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
(বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।)
Leave a Reply