1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
এমএসকে ফাউন্ডেশন’র বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন “মোজাদ্দেদীয়া তরীকা” – মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম (খাজা হাবীব ) সিলেটে বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ পটিয়া পৌর মেয়রের সাথে চট্টগ্রাম – কক্সবাজার রেলওয়ে যাত্রী কল্যাণ পরিষদের মতবিনিময় সভা এশিয়ান নারী ও শিশু অধিকার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বৃক্ষরোপণ হামলাকারী ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করতে সাংবাদিকদের আল্টিমেটাম, দায়িত্বে অবহেলা করলেই কঠোর আন্দোলন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের মানবিক উপহার বিতরণ “বাবা” – মোহাম্মদ আব্দুল হাকীম (খাজা হাবীব) সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার নিয়ে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সাত লাখ সাতানব্বই হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট। সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ইউপি সদস্য কর্তৃক সাংবাদিক পরিবারের উপর হামলা

১ লা জুন! আমাদের পরিবারের ঐতিহাসিক এক বেদনাদায়ক শোকাবহ দিন

  • সময় মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০২২
  • ১৭৪ পঠিত

পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া কর্মেগুনে অমর হয়ে থাকে।

কবি তার উপলব্ধি থেকে লিখেছেনঃ
এমনো জীবন, তুমি করিবে গঠন
মরণে হাসিবে তুমি, কাঁদিবে ভুবন!!

আমার শ্রদ্ধেয় পিতা মরহুম জোনাব আলী ফকিরের আজ ১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী এই দিনটি যখন ফিরে আসে তখনই বাবার অতীতের নিজের দেখা অনেক স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠে।

জম্মঃ ১৯২০ সাল ২৩ ই সেপ্টেম্বর পটিয়া পৌরসভা অন্তরগত ঐতিহ্যবাহী সুচক্রদন্ডী গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জম্মগ্রহন করেছেন। ছোটবেলা থেকে বাবা সৎসাহসী আপোষহীন # তেজোদৃপ্ত # বুদ্ধিমান # নির্ভীক সমাজসংস্কারক ছিলেন। এবং স্পষ্টভাষায় যা বলতেন তা সামনেই বলতেন। পিছনে তিনি কোনো সমলোচনা পছন্দ করতেন না।

তার বেড়ে ওঠার মধ্যে দিয়ে ভাবনা ছিলো নিজ এলাকার মানুষ পাড়া প্রতিবেশী তাদের সুখে দুঃখে পাশে থাকা এবং সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। অন্যায়কারী সে যেই হোক তাকে তিনি ছাড় দিতেন না।

তিনি ঘরের বড় সন্তান হওয়াতে লেখাপড়া তেমনটা করতে পারেনি। খুব অল্প বয়সে তিনি সংসারে হাল ধরেছেন মাটি কাটা কাজে চাকুরি করেছেন। ফজরের নমাজের পর পর কেলিশহর পাহাড় থেকে ছন নিয়ে বোয়ালখালী ভারম্বা নামক জায়গা ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিক্রি করতে যেতেন। পারিশ্রমিক একজন ব্যক্তি ছিলেন।

তিনি জীবনে প্রাচুর্য ঐশ্বর্য একেবারে ভোগবিলাস করেন নি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাদামাঠা জীবন যাপন পছন্দ করেছেন।
এমনকি বাসায় ভালো রান্না করলেও তিনি খেতেন না।

সবসময় ইবাদতবন্দেগী ছিলেন আল্লাহ রাসূলের প্রতি তার যতেষ্ট প্রেম ছিলো। প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন এমনকি বৎসরে ৬ মাস রোজা রাখতো এবং রবিউল আওয়াল মাসে ১১ ও ১২ তারিখ নিজের অর্থায়নে ঔরষ মোবারক করতেন যা এলাকার মানুষদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন।

তিনি একজন সফল ব্যাবসায়ী ছিলেন দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে চট্রগ্রাম শহরে আন্দরকিল্লা বুক হাউস নামে প্রতিষ্টান ছিলো পটিয়াতে মুন্সেফ বাজার সংলগ্ন কাপড়ের দোকান ছিলো। ইন্দ্রপুল লবন শিল্প বাবার হাতে প্রতিষ্টিত। বৃহত্তম চট্রগ্রামে তার একক গমের ব্যবসা ছিলো।

রাজনীতিতে পদার্পন করেছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাত ধরে মুসলিম আওয়ামীলীগে।
তার রাজনীতি ছিলো মানুষের কল্যানে অসহায় দরিদ্র নিপীড়িত মজলুমের স্বার্থ অধিকার প্রতিষ্টার জন্য।
মওলনা ভাসানী বাবাকে লালদিঘি মাঠে মজলুম জননেতা উপাধিতে ভূষিত করেন।

বাবা একজন ভালো বক্তা ও ছিলেন। বড় বড় জনসভায় বাবার আঞ্চলিক ভাষায় তেজোদৃপ্ত বক্তব্য শুনার জন্য মানুষ বসে থাকতেন।

জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু যখন দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে স্বপ্ন দেখলেন এবং ভেবেছিলেন সকল সম্প্রাদায়ীক শক্তিকে এক করতে হলে মুসলিম আওয়ামীলীগ শব্দটি ব্যবহৃার করা যাবে না তখন সরাসরি মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে অসম্প্রাদায়ীক সংগঠন করলেন আওয়ামীলীগ।

তখনই বৃহত্তর চট্টগ্রামে আওয়ামীলীগ প্রতিষ্টার দায়ীত্বে কয়েকজনের মধ্যে আমার বাবা অন্যতম।
চট্রগ্রাম শহরে আমার বাবার প্রতিষ্টানে বসতেন এম এ আজিজ, জহুর আহম্মদ চৌধুরী পটিয়ার হামিদ সাহেব সহ আরো অনেকে এরা চট্রগ্রামে আওয়ামীলীগের সংগঠন শক্তিশালী করার এবং জাতিরপিতার যে নির্দেশনা থাকতো তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করার। বাবা সবসময় প্রচার বিমুখ থাকতেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাবার ভূমিকা ছিলো অন্যন তখন তিনি পুরাপরি আধ্যাত্মিক মশগুলে ছিলেন। আমাদের আশে পাশে হিন্দু অধ্যাষিত এলাকা ছিলো পান্জাবীরা তাদের বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলো তাদের মা বোনের ইজ্জত নষ্ট করার জন্য চেষ্টা করতো কিন্তুু বাবা তাদের বুঝিয়ে পাকিস্তানি হায়নাদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিতেন।

অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যে সহয়তা দিয়েছেন।প্বাশবর্তী লোকজনের বাসায় খাদ্য পাঠাতেন।
কিন্তুু আমার বাবার একমাত্র আদরের ছোট ভাইকে পান্জাবীরা ধরে নিয়ে গেছেন তার উপর শারীরিক অনেক অত্যাচার করেছেন।

বাবা একজন অসম্প্রাদায়ীক মানবতাবাদী সাহসী তেজোদৃপ্ত পুরুষ ছিলেন। তিনি যেখানেই বসতেন মানুষ তার কথা পরার্মশ শুনার জন্য অধিআগ্রহে বসে থাকতেন।

স্বাধীনতা ফিরে আসার পর তিনি রাজনীতি থেকে সরে আসলেন। পুনরায় আধ্যাত্মিক সাধনায় ফিরে গেলেন। কিন্তুু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুঁথি পাঠের আসরে অশংগ্রহন করতেন। পুঁথির ভালো ব্যাখ্যা করতেন।এবং সমাজে যেখনো শালীসি বৈঠকে থাকতেন কঠিন ভাবে বিচারের কাজ সম্প্রদান করতেন।সমাজ উন্নয়নে দেখভাল ও করতেন।

১৯৭৩ সালে স্বতন্ত্র থেকে তলোয়ার মার্কায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেন।
১৯৮১ সালে বাবা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ও অংশগ্রহণ করলেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারে বাবার বক্তব্য জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন।

পটিয়ায় তিনি বৃহত্তর কিছু অবদান রেখেছেন। তার মধ্যে পটিয়া মহকুমা, চাঁনখালী খাল খনন, পটিয়া সরকারি কলেজ সরকারি করণ, পটিয়া আর্দশ স্কুলের ভুমি রক্ষা, পটিয়া থানার হাট প্রতিষ্টা। পটিয়াকে জেলা ঘোষনা আন্দোলনে তার ভুমিকা ছিলো।
নিজের এলাকায় মসজিদ নির্মান বৃহত্তম একটি সমাজ প্রতিষ্টা আরো অনেক অবদান রয়েছে বাবার যা লিখে শেষ করা যাবে না।

মানুষের মাঝে মানবিক ধর্মীয় সমাজিক রাজনৈতিক যে গুণাবলি থাকার দরকার তার মধ্যে তা ছিলো শতভাগ।

তিনি জীবদ্দশায় কোনো মানুষের আপ্যায়ন গ্রহন করতেন না। দেশে যেখোনো অনুষ্ঠানে যেতেন নিজের খাওয়ার সাথে নিয়ে যেতেন।
তিনি সত্য সততা এবং হালালের জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রামে অবর্তীণ ছিলেন।

তার যে দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি যে ভালোবাসা ছিলো তা অসাধারন। মুখে যা বলতেন কাজে তা করতেন।
তার সততা এবং নিষ্ঠার কাছে মানুষ ভয় পেতেন তাকে দেখা মাত্র মানুষ দূরে চলে যেতো তখন আমি ভাবতাম কেনো মানুষ বাবাকে দেখে দূরে চলে যায় বাবা বলতেন চোর এবং বাটপাররা আমার সামনে দাঁড়ার সাহস নেই।

তার স্মৃতিচারণ লিখে শেষ করা যাবে না তার বর্ণাঢ্য জীবনের বিশাল ইতিহাস রয়েছে।

এধরনের আদর্শবান সৎসাহসী ত্যাগী মহাপুরুষ বর্তমান সমাজে বিরল।

বাবার বিদায়ের বেলায় আমাদের পরিবারে একমাত্র আমি কাছে ছিলাম কিছু উপদেশ বাবা আমাকে দিলেন সৎ পথে থাকা এবং সত্য কথা বলা ও হালাল খাওয়া জন্য।
তোমাকে দোয়া করে গেলাম একদিন তুমি অনেক বড় হবে।
২০০২ সালে ১লা জুন চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজে আমার বুকের মাঝে বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।

আজকে বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে আপনাদের সকলে কাছে বাবার জন্য দোয়া চাচ্ছি বাবাকে যেনো আল্লাহ জান্নাতে শ্রেষ্টতম স্থানে অধিষ্ঠিত করে।

লেখকঃ নুর আলম সিদ্দিকী

(জনাব আলীর সন্তান)

সভাপতি

পটিয়া পৌরসভা আওয়ামী যুবলীগ

 

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট