
পবিত্র রমজান মাসের শেষ প্রান্তে এসে মুসলিম উম্মাহর জন্য এসেছে এক মহামূল্যবান সুযোগ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিন শ্রেণির মানুষের জন্য হযরত জিবরাঈল (আ.) বদদোয়া করেছেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে “আমীন” বলেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম সেই ব্যক্তি, যে রমজান মাস পেয়েও নিজের গোনাহ মাফ করাতে ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ ৩০তম রোজা পালিত হচ্ছে। সে হিসেবে আজকের রাত রমজানের শেষ রাত—যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ক্ষমা ও মুক্তির এক বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত।
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“রোজাদারদের জন্য ফেরেশতারা ইফতার পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। আর প্রতি রাতেই আল্লাহ তাআলা কিছু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর যখন শেষ রাত আসে, তখন তিনি সেই এক রাতেই পুরো মাসে যতজনকে মুক্তি দিয়েছেন, সমপরিমাণ মানুষকে মুক্তি দেন।”
(মুসনাদে আহমদ, শু‘আবুল ঈমান)
দোয়ার গুরুত্ব ও করণীয়:
ইসলামে দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে রমজানের শেষ রাতে নিজের গোনাহ মাফ চাওয়ার পাশাপাশি পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মুসলিম জনপদগুলোর নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য দোয়া করা ঈমানী দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হযরত ইবরাহীম (আ.) নিজ মাতৃভূমির জন্য দোয়া করে উম্মতের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
অন্যদিকে, সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে
হযরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ বলেন:
“কোনো মুসলিম যখন তার অপর ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে দোয়া করে, তখন ফেরেশতা বলেন— ‘তোমার জন্যও অনুরূপ হোক।’”
(সহীহ মুসলিম)
রমজানের শেষ রাত আমাদের জন্য এক অমূল্য সুযোগ—ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির। এই মহিমান্বিত সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন আলেমরা।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন। আমীন।
Leave a Reply