1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার ১ প্রকৃতির অক্সিজেন বনাম কৃত্রিমতার চাপ—কোন পথে আমরা? – লায়ন উজ্জল কান্তি বড়ুয়া বর্ষা সামনে রেখে চট্টগ্রামে খাল-নালা পরিষ্কারে বিশেষ কার্যক্রম শুরু। চট্টগ্রামে শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যা প্রধান আসামি রানা গ্রেফতার আনোয়ারা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত মৌলভীবাজার ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শুভ উদ্বোধন চন্দনাইশে লায়ন্স ক্লাবের দিনব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত দোহাজারী নাগরিক কমিটির অভিষেক ও সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ চন্দনাইশে কাঞ্চনাবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সংবর্ধনা ও বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে

প্রকৃতির অক্সিজেন বনাম কৃত্রিমতার চাপ—কোন পথে আমরা? – লায়ন উজ্জল কান্তি বড়ুয়া

  • সময় রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৯ পঠিত

চট্টগ্রামের হৃদয়ে অবস্থিত সিআরবি- যা শুধু একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং একটি ইতিহাস, একটি সংস্কৃতি, একটি প্রাণের স্পন্দন। সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলপথ-এর উদ্যোগে এই এলাকায় হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যা নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই, তবে সেই উন্নয়ন যদি পরিবেশ ও ঐতিহ্যের বিনিময়ে হয়, তবে তা কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

চট্টগ্রাম একটি দ্রুত বর্ধনশীল বন্দরনগরী। শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের চাপে শহরের সবুজ অঞ্চল দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সিআরবি এলাকাকে শহরের “ফুসফুস” বলা হয়—এটি কেবল একটি উপমা নয়, বরং বাস্তবতা। শতবর্ষী বৃক্ষরাজি, পাহাড়-টিলা, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং মুক্ত বাতাসের এক অনন্য সমন্বয় এই এলাকাকে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সম্পদে পরিণত করেছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক পর আবারও এখানে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ ২০২১ সালে একই প্রকল্পের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। পরিবেশবাদী, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে তখন প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সিআরবি কেবল একটি জমি নয়, এটি মানুষের আবেগ, স্মৃতি এবং পরিচয়ের অংশ।

সিআরবি এলাকায় প্রতিদিন শত শত মানুষ হাঁটাহাঁটি করেন, ব্যায়াম করেন, আড্ডা দেন। পহেলা বৈশাখ, বসন্ত উৎসব কিংবা ঐতিহ্যবাহী বলীখেলার মতো আয়োজনগুলো এই স্থানকে একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত করেছে। শহরের কংক্রিটের ভিড়ে এই ধরনের উন্মুক্ত সবুজ স্থান মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

আইনগত দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানে সিআরবি-কে “কালচারাল হেরিটেজ” এবং সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর অর্থ, এখানে বাণিজ্যিক বা স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। সেই হিসেবে একটি বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা। চট্টগ্রামের মতো একটি বড় শহরে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার প্রয়োজন রয়েছে, এতে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সেই হাসপাতাল কি এমন একটি সংরক্ষিত ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্মাণ করতেই হবে? শহরের অন্যত্র কি উপযুক্ত জায়গা নেই? পরিকল্পনার এই ঘাটতিই মূল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, সিআরবি এলাকায় বড় ধরনের নির্মাণ কাজ শুরু হলে শুধু গাছ কাটা নয়, পুরো এলাকার জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। পাখি, কীটপতঙ্গ, ছোট প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হবে। একই সঙ্গে মাটি ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে নগর পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

একটি শহরের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে হয় না; বরং পরিবেশ, সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান বজায় রেখেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হয়। সিআরবি-এর মতো একটি ঐতিহাসিক ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধ্বংস করে যে উন্নয়ন হবে, তা শেষ পর্যন্ত শহরের জন্য ক্ষতিকরই হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রাকৃতিক অক্সিজেনের কোনো বিকল্প নেই। হাসপাতাল মানুষের জীবন বাঁচায়, কিন্তু সেই হাসপাতাল যদি এমন একটি স্থানে নির্মিত হয়, যা হাজারো মানুষের সুস্থতার উৎস, তাহলে সেটি এক ধরনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়াবে।

তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আহ্বান, চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হলেও, তার জন্য উপযুক্ত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হোক। সিআরবি-এর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও পরিবেশগত সম্পদকে অক্ষত রাখা হোক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। চট্টগ্রামবাসী কৃত্রিম অক্সিজেন নয়, প্রাকৃতিক সবুজেই বাঁচতে চায়। এই সত্যকে অস্বীকার করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না।

লেখক পরিচিতি : কলাম লেখক ও সংগঠক; সেক্রেটারী, লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং কর্ণফুলী এলিট।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট