
আলমগীর আলম।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ১৪ বছর বয়সী মিনহাজুল ইসলাম এখন পরিবারের একমাত্র ভরসা।
যে বয়সে তার স্কুলে বসে পড়াশোনা করার কথা, সে বয়সেই বাবার রেখে যাওয়া সিএনজি চালিয়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে সে।
জানা গেছে, মিনহাজুল ইসলাম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তার বাবা স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেলে পরিবারের ওপর নেমে আসে চরম আর্থিক সংকট। পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন তার বাবা।
বাবার মৃত্যুর পর সংসারে অভাব-অনটন দেখা দিলে বাধ্য হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে জীবিকার সন্ধানে নামতে হয় একমাত্র সন্তান মিনহাজকে।
পরিবারের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে বাবার রেখে যাওয়া সিএনজি অটোরিকশাটি চালানো শুরু করে সে।
অল্প বয়সেই রাস্তায় নেমে যাত্রী পরিবহন করে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে চলছে তাদের সংসার।
স্থানীয়রা জানান, মিনহাজ অত্যন্ত শান্ত ও পরিশ্রমী ছেলে।
প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিএনজি চালিয়ে পরিবারের খরচ জোগাড় করে।
তবে তার চোখে এখনো স্বপ্ন আছে—সুযোগ পেলে আবারও পড়াশোনায় ফিরে যেতে চায় সে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছেন, মিনহাজের মতো শিশুদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের সকলের দায়িত্ব। তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে সে ভবিষ্যতে দেশের জন্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান এলাকার লোকজন যেন তারা মিনহাজের পাশে দাঁড়িয়ে তার শিক্ষাজীবন পুনরায় শুরু করার ব্যবস্থা করেন।
Leave a Reply