
চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি: মুহাম্মদ আবদুল আলী
তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকীসহ প্রতিষ্ঠানের চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাব।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (১৭ জুন) বিকেল ৫টায় আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডস্থ চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ আবু মুসার সভাপতিত্বে এবং দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এনামুল হক রাশেদীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ তাফসির, অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর উপ-সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন এবং স্টাফ রিপোর্টার মো. এনামুল হক রাশেদী।
বক্তারা বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয় তথ্য-উপাত্ত এবং অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের তথ্যভিত্তিক জবাব না দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তারা আরও বলেন, যদি এ ধরনের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তবে এটি শুধু কয়েকজন সাংবাদিককে হয়রানির অপচেষ্টা নয়; বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের একটি বিপজ্জনক নজির। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো জনস্বার্থে সত্য উদঘাটন করা এবং দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জবাব মামলা, ভয়ভীতি বা হয়রানির মাধ্যমে দেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
এ সময় দেশের সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, সুশীল সমাজ ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকল নাগরিকের প্রতি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম রক্ষার আন্দোলনে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, “আমরা স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম চাই। সত্য প্রকাশের অধিকার রুদ্ধ করা যাবে না। হয়রানিমূলক মামলার মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।”
মানববন্ধনে চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
Leave a Reply