
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলন ঘিরে হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের ৬৪ মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ১ হাজার ১০০ জন জামিনে মুক্ত হয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এসব মামলায় মোট ১ হাজার ৪৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ৬৪ মামলার মধ্যে ১৪টি হত্যা মামলা। এসব মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ৩ হাজার ১৪৭ জন এবং অজ্ঞাতনামা আসামি ৫ হাজার ৯১১ জন। সোমবার পর্যন্ত ছয়টি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। একটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনও দিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তদন্তাধীন মামলাগুলোতে আসামি করা ও বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং গ্রেপ্তার-বাণিজ্য চলছে। এজাহারভুক্ত অনেক আসামি পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, জামিনে মুক্ত ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
জামিনে মুক্তদের মধ্যে বায়েজিদ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল নবী লেদু, চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক, সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুল হাকিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর কথা জানিয়েছেন। সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে হওয়া নয়টি মামলার অধিকাংশই বাদীর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে শেষ করেছেন।
সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তিও দেওয়া হচ্ছে। জামিনে থাকা ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ নজরদারিতে রেখেছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো আসামির জামিননামা এলে তার বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশকে জানানো হয়। অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ না থাকলে পুলিশি ক্লিয়ারেন্সের পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
Leave a Reply