
এই তো জীবন…
চোখের এক পলকে সবকিছু বদলে যায়। যে মানুষটা আজ আমাদের পাশে বসে হাসছে, কাল হয়তো তার ছবিটাই বুকে জড়িয়ে কাঁদতে হবে।
আজ যে মানুষটা বুক ফুলিয়ে, মাথা উঁচু করে হাঁটছে, একদিন হয়তো তাকেই ঘিরে মানুষ বলবে—
“লাশটা একটু ধরেন…”
আমরা কত কিছুর অহংকার করি—
টাকা, চেহারা, ক্ষমতা, দামি পোশাক, বড় বাড়ি, গাড়ি…
অথচ মৃত্যু এসে একবার দরজায় কড়া নাড়লে সব অহংকার, সব ব্যস্ততা, সব হিসাব এক মুহূর্তেই থেমে যায়।
এই বছরই আমি হারিয়েছি
আমার আপন ৩ জন মানুষকে। তাঁরা আজ আর পাশে নেই,
নেই তাঁদের কণ্ঠস্বর, নেই তাঁদের ছোঁয়া, নেই হঠাৎ করে ডেকে ওঠার সেই পরিচিত ডাক। কখনো কখনো মনে হয়,
মানুষগুলো কি সত্যিই চলে গেছে?
বাস্তবতা বড় নির্মম…
দরজা খোলা থাকে,
ঘরটা আগের মতোই থাকে,
শুধু মানুষগুলো আর ফিরে আসে না। তাঁদের রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলোই নীরবে বুকের ভেতর কাঁদতে থাকে।
তখন বুঝি—
আমরা কত তুচ্ছ বিষয় নিয়ে রাগ করে থাকি,
কত আপন মানুষকে অবহেলা করি, কত কথা না বলেই দিন পার করে দিই। ভাবি, সময় তো আছেই…
পরে কথা বলব, পরে দেখা করব, পরে ভালোবাসা জানাব। কিন্তু সেই “পরে” যে সবার জীবনে আসে না! তাই কিসের এত অহংকার?
কিসের এত রাগ, অভিমান, হিংসা আর দূরত্ব?
শেষ বেলায় টাকা লাগে না,
ক্ষমতা লাগে না,
দামি গাড়ি বা বিশাল বাড়িও লাগে না।
শেষ বেলায় লাগে শুধু
কিছু আপন মানুষের ভালোবাসা,
কিছু মানুষের দোয়া,
আর এক মুঠো মাটি।
আজ যারা আমাদের পাশে আছে,
তাদের একটু বেশি ভালোবাসি। যাদের সঙ্গে অভিমান জমে আছে, সময় থাকতে তাদের কাছে ফিরে যাই। কারণ মানুষ হারিয়ে যাওয়ার পর হাজারবার “ইশ!” বলেও
তাকে আর ফিরিয়ে আনা যায় না।জীবন সত্যিই খুব ছোট…
আজ আমরা কারও জানাজায় দাঁড়িয়ে কাঁদি,
কাল হয়তো কেউ আমাদের জন্য কাঁদবে।
প্রাবন্ধিক ও লেখকঃ নোহা নেছার অন্নি
Leave a Reply