
আলমগীর আলম,পটিয়া।
পটিয়ায় হঠাৎ করে চায়না মাল্টার দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও শিশুদের জন্য ফল কিনতে আসা নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ পড়েছেন বিপাকে। ফলে তুলনামূলক কম দামের দেশি সবুজ মাল্টার চাহিদা বেড়েছে স্থানীয় বাজারগুলোতে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) পটিয়া পৌরসভার ছবুর রোড, কামাল বাজার ও স্টেশন রোডের ফলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, চায়না মাল্টার তুলনায় ক্রেতারা দেশি সবুজ মাল্টার দিকে বেশি ঝুঁকছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবুজ মাল্টা আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চায়না মাল্টা বর্তমানে প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে চায়না মাল্টার সরবরাহ ও বাজারদরে পরিবর্তন এসেছে। ফলে আগের তুলনায় দাম বেড়েছে বলে দাবি করছেন ফল ব্যবসায়ীরা। দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতাই প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও চায়না মাল্টা কিনতে পারছেন না। বিকল্প হিসেবে কম দামের দেশি মাল্টা কিনছেন তারা।
পটিয়ার কামাল বাজারে মাল্টা কিনতে আসা ক্রেতা তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ বলেন, “আমার ছেলে অসুস্থ। তার জন্য মাল্টা কিনতে এসেছিলাম। চায়না মাল্টার দাম অনেক বেশি হওয়ায় কিনতে পারিনি। পরে দেশি সবুজ মাল্টা নিয়েছি।”
তিনি বলেন, রোগীর জন্য ফল কিনতে এসে যদি এত বেশি দাম দিতে হয়, তাহলে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য তা খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। দেশি ফলের দাম তুলনামূলক কম থাকায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।
ফল ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বলেন, “চায়না মাল্টার দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা এখন দেশি সবুজ মাল্টা কিনছেন। আগে যারা চায়না মাল্টা নিতেন, তাদের অনেকেই এখন দামের কারণে দেশি মাল্টার দিকে যাচ্ছেন। দেশি মাল্টার বিক্রিও আগের তুলনায় বেড়েছে।”
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বাজারে ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখন দাম বিবেচনা করে ফল কিনছেন। বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তি, শিশু ও বয়স্কদের জন্য ফল কিনতে আসা পরিবারের সদস্যরা তুলনামূলক সস্তা ফল খুঁজছেন। এতে দেশি মাল্টার পাশাপাশি পেয়ারা, আমড়া, কলাসহ অন্যান্য দেশি ফলের প্রতিও ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে।
স্থানীয় ক্রেতাদের মতে, মাল্টা ভিটামিন সি-সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের উৎস হওয়ায় অনেক পরিবার নিয়মিত ফলের তালিকায় এটি রাখে। তবে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে মাল্টাকে নির্ভর করার বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ ও সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ফল খাওয়াই উপযোগী।
পটিয়ার বাজারগুলোতে বর্তমানে যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে একদিকে চায়না মাল্টার বাড়তি দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে দেশি সবুজ মাল্টা স্থানীয় বাজারে বিকল্প হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, দেশি মাল্টার সরবরাহ স্বাভাবিক ও মান ভালো থাকলে সামনে এর চাহিদা আরও বাড়তে পারে।
ক্রেতাদের দাবি, ফলের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আমদানিকৃত ফলের পাশাপাশি দেশি ফলের সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলক কম দামে পুষ্টিকর ফল কেনার সুযোগ তৈরি হবে।
Leave a Reply