1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Admin Admin : Admin Admin
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
“মুক্ত পাঠাগার” এর চট্টগ্রাম জেলা শাখার ১ম লেখক আড্ডা বাকলিয়ায় ২২ নং বিট পুলিশ ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত সৈয়্যদা মাদিহা আল বাতুল গোল্ডেন A+ পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার সফলতা আ জ ম নাছিরের অগ্নিপরীক্ষা চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক কর্মচারী লীগের প্রস্তুতি সমাবেশে আ জ ম নাছির উদ্দীন। চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার জনসভায় শ্রমিক কর্মচারীদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে -আবুল হোসেন আবু নুসরাত জাহান (ঝুমুর) এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেলো। জঙ্গল সলিমপু’রে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ওসমান গনি। পটিয়া ৯৪ এর ফ্যামিলি মিলন মেলা ও মেজবান উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন গাউসে পাকের শিক্ষা পাঁচ ওয়াক্ত নামায যথাসময়ে আদায় করা- ফাতেহা-ই ইয়াজদাহুম মাহফিলে বক্তারা

চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন

  • সময় রবিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২২
  • ৮৯ পঠিত

জলাবদ্ধতা, যানজট, মশার অত্যাচার, সংস্কারবিহীন ভাঙ্গা রাস্তা, পরিবেশ ও শব্দ দূষণ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে গুড়িয়ে দিচ্ছে-চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন

আমাদের সকল প্রয়াস ও উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের আগামীদিনের বংশধরদের জন্য একটি আধুনিক স্বাস্থ্যময়য়, সুন্দর, সুশৃংখল চট্টগ্রাম গড়ে তোলা । চট্টগ্রামের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব কি তা বলার অপেক্ষা রকে না | কিন্তু জলাবদ্ধতা, যানজট, মশার অত্যাচার, সংস্কারবিহীন ভাঙ্গা অলিগলি, রাস্তাগুলো পরিবেশ ও শব্দ দূষণ ইত্যাদি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে গুড়িয়ে দিচ্ছে আর মানুষকে করছে হতাশাগ্রস্থ। জনপ্রতিনিধিদের এই ব্যাপারগুলি নিয়ে কতটুকু মাথাব্যথা আছে তা জনগণ বুঝতে পারছেন না না। চট্টগ্রাম মহানগরকে সার্বিকভাবে উন্নত করতে জনগণের কোনো অংশগ্রহণ নেই, আর নেই জনগণকে পরিবেশ ও স্বাস্থ সচেতন করার কোনো কর্মকান্ড | এটা বর্তমান সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নত ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ | আমরা এই বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আজকের এই সংবাদ সম্মেলন আযোজন করেছি।

নাগরিক ফোরামের সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন আয়েজিত সংবাদ সমোলনে সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে নিয়ে আমি এবং আমার সহযোদ্ধারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, যেমন ১৯৮৭-১৯৮৮ সালে হরতাল, গণ-অনশন, সেমিনার, মানববন্ধন ইত্যাদি করে এই সমস্যার সমাধানের স্থায়ী দাবিতে চট্টগ্রামবাসীর সমর্থন নিয়ে আমরা সক্রিয় থেকেছি। ১৯৮৯ সাল থেকে পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরীর খালগুলি উপর থেকে অবৈধ দখলমুক্ত করা, জমি হুকুম দখল করে প্রশস্তকরণ, শেখ মুজিব রোড বক্স কালভার্ট নির্মাণ ইত্যাদি হয়েছিল ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে এগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার করা হয়নি। অপরদিকে নির্বিচারে পাহাড় কাটা মাটি এসে খালগুলিকে ভরাট করেছে। এসবকিছুর কারণে সমস্যা পরবর্তীতে ফিরে আসে আরও প্রকট হয়ে। ২০১৫ সাল থেকে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠন করে আমরা আবারো জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সোচ্চার হই এবং ফলশ্রুতিতে ১৯১৭ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ঐ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ ছিল দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা। আমরা ইতিমধ্যে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, মেয়র সিডিএ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রতিনিধি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত ৩৪ নং সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক, ওয়াসা , পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জলাবদ্ধতা বিষয়ে বিশেষ কনভেনশন আয়োজন করেছিলাম ২০১৯ সালে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সার্বিক সমন্বয় , গণ সচেতনতা সৃষ্টি এবং সময়মতো কাজ শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। আমরা বিগত কয়েকদিন যাবৎ মেগা প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম পরিদর্শন করেছি। বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারের পিছনে যে খালটি তা চাক্তাই খালের অংশ, কিন্তু সেটিতে কেন এখনো হাত দেওয়া হয়নি তা বোধগম্য নয় ! সেখানে অনেকাংশে পলিথিন ব্যাগ এবং আবর্জনায ভরাট হয়ে আছে এবং এর উপর সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব সার্কেল-২ এর অফিস এখনো বহাল আছে। এতে খালের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ হাইকোর্টের একটি সিদ্ধান্তের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক এবং বেআইনি।এটি ভাঙা না হলে আমরা হাইকোর্টের নির্দেশনার জন্য উদ্যোগ নেবো |

ব্যারিস্টার মনোয়ার আরো বলেন, অপরদিকে শেখ মুজিব রোড কালভার্ট সংস্কারের কোন সংস্কারের জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অথচ এটি শত শত কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিল। আমরা দেখেছি সিডিএ এভিনিউ (বিশ্বরোড) এর সম্প্রসারণ কাজ চলছে, কিন্তু এর বাহির অতিরিক্ত ধারণকৃত পানি গুলো দ্রুত গতিতে নিস্কশিত হওয়ার ক্ষেত্রে এই বর্ষাতে প্রবলভাবে বাঁধা পাবে যদিনা বর্ষার আগেই এ সবকিছুর সুরাহা না হয়। অন্যান্য স্থানে আমরা লক্ষ্য করেছি একই পরিস্থিতি। স্লুইস গেটগুলোর নির্মাণ কাজ কতটুকু হয়েছে তাও এখনো জনগণ জানেন না। মুরাদপুর শহীদ জানে আলম সড়কসহ নগরীর বেশিরভাগ গলিতে ড্রেনগুলো মেগা প্রকল্পের আওতায় এনে সংস্কার ও সম্প্রসারণ না করায় এখান থেকে ময়লা পানি জমে দুর্গন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে মশার উপদ্রব আরও বেড়েছে। আমরা এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং আসন্ন বর্ষার আগেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভরাট খাল ও ড্রেন গুলো সংস্কারের জন্য। এই সাথে মেগা প্রকল্প কাজের এ যাবৎ অগ্রগতির ব্যাপারে জন্যগণকে একটি সম্পূর্ণ ধারণা দেওয়ার জন্য সিডিএ’র প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন বর্তমান মশার উপদ্রব, ভরাট খাল, নালা, সংস্কার বিহীন অলিগলি, যানজট, শব্দ ও পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি দেখে মনে হয় না এখানে কোনো একটি সিটি কর্পোরেশন বা কতৃপক্ষ রয়েছে। মশার উপদ্রব থেকে জনগণকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে সিটি কর্পোরেশন। মানুষ অত্যন্ত অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে | ঠিক এই সময়ে সিটি কর্পোরেশন বলেছে সংস্কারকৃত নবনির্মিত ড্রেনের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন নেবে না যদি অর্থ আগে না আসে । আমরা মনে করি এসব সিটি কর্পোরেশের এর দায়িত্ব এবং এর জন্য বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক শুনতে নগরবাসী আগ্রহী নয় | নগরীর মেয়র সাহেবের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর এক নাম্বর প্রতিশ্রুতি জলাবদ্ধতার দ্রুত সমাধান এবং তিনি এ থেকে সরে আসবেন না আশা রাখি | আমার সাথে মেয়র সাহেবের ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো এবং তিনি আমার এবং আজকে উপস্থিত সহযোদ্ধা বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী শাহরিয়ার খালেদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা চট্টগ্রামের দুঃখ খ্যাত চাক্তাই খাল আন্দোলনের কমিটিতে তিনি অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। আমি আহ্বান মেয়র সাহেবকে যেন জনগণকে হতাশ না করে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং সিটি কর্পোরেশনকে জনগণের প্রকৃত কল্যাণে কাজে লাগান।দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনগণের ভালোবাসা বঞ্চিত হবেন | আমরা আসন্ন বর্ষার আগেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভরাট খাল ও ড্রেন গুলো সংস্কারের জন্য দাবি যাচ্ছি । এই সাথে মেগা প্রকল্প কাজের এ যাবৎ অগ্রগতির ব্যাপারে জন্যগণকে একটি সম্পূর্ণ ধারণা দেওয়ার জন্য সিডিএ’র প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

আজ আমরা সার্বিক বিবেচনা করে ঘোষণা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে নগরীকে মশামুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে আমরা গণ-অনশনসহ বিভিন্ন ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব। এই সাথে সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশন এর কাছে দাবি করছি এ যাবৎ খোলা ড্রেনে পড়ে যারা মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদেরকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য এবং এসব পুনরাবৃত্তি বন্ধে কি করা উচিত তা সংশ্লিটরা জানেন| আর একটিও এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে নগরবাসী আর নিশ্চুপ থাকবে না।

চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মো: কামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ সভাপতি শিল্পী শাহরিয়ার খালেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লাইলা বানু গোলাপুর রহমান, মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, আকরাম হোসেন, এড টি আর খান, এ জি এম জাহাঙ্গীর আলম, আধ্যাপক ফরিদ, কানিজ ফাতেমা, এড ইমতিয়াজ, তসলিম খাঁ প্রমুখ।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট