
পটিয়া প্রতিনিধি।
বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে ছনুয়া,বৈলছড়ি খাতুরিয়া সরলসহ একাধিক ইউনিয়ন পৌরসভা এখনো বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি পানিতে ডুবে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক পরিবার এখনো নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারেনি এবং খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটে দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে বন্যার ভয়াবহতার মধ্যেই ঘটেছে একের পর এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত অন্তত তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেদনাদায়ক দৃশ্য ছিল এক পিতার কাঁধে নিজের সন্তানের নিথর দেহ বহন করা। চারদিকে কোমরসমান পানি থাকায় স্বাভাবিকভাবে জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে বন্যার পানির মধ্যেই জানাজার নামাজ আদায় করা হয় এবং পানিতে নিমজ্জিত কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করতে হয়।
এই করুণ দৃশ্য উপস্থিত মানুষের চোখে অশ্রু এনে দেয়। অনেকেই বলেন, এমন অসহায় পরিস্থিতি জীবনে কখনো দেখেননি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনকে কতটা বিপর্যস্ত করে দিতে পারে, এই ঘটনাই তার নির্মম উদাহরণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। নৌকা ছাড়া অনেক এলাকায় যাতায়াতের কোনো সুযোগ নেই। অসুস্থ, শিশু ও বয়স্ক মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন।
দুর্গত এলাকার মানুষ দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা, পর্যাপ্ত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার এবং চিকিৎসা সেবার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি বন্যা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মানবিক আবেদন:
বাঁশখালীর দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply