1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ ছিলেন আদর্শিক রাজনীতির বরপুত্র ও ইতিহাসের অংশ – তসলিম উদ্দীন রানা “বাংলাদেশ লিওদিবস-২০২৬: যুব সমাজ নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা”  -লায়ন ডাঃ এম.জাকিরুল ইসলাম পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর শিক্ষা ও তাৎপর্য মাওলানা এম. সোলাইমান কাসেমী “পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ও জশনে জুলুস উদযাপনের গুরুত্ব-তাৎপর্য ” মাওলানা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দীন কাদেরী পটিয়ায় জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী ও নাতে মোস্তফা মাহফিল অনুষ্ঠিত ভেজাল-অনিয়মে ফ্লেভারস-মেরিডিয়ানসহ চার প্রতিষ্ঠানকে ৪০ লক্ষ টাকা জরিমানা রজভীয়া নুরীয়া কমিটি বাংলাদেশ পটিয়া উপজেলা পূর্ব পরিষদ গঠিত হাটহাজারীতে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সেঞ্চুরিয়ানের বিনামূল্যে চক্ষু শিবির, ৬৮০ জন রোগীকে চিকিৎসা প্রদান পটিয়ায় জিরিতে মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী সচেতনতামূলক র‍্যালি আয়ান শর্মা একা নন, পাশে শত শত সাংবাদিক

মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ ছিলেন আদর্শিক রাজনীতির বরপুত্র ও ইতিহাসের অংশ – তসলিম উদ্দীন রানা

  • সময় রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৬ পঠিত

 

মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ ছিলেন উপমহাদেশের রাজনীতির এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব—একজন আলেম, কৃষকনেতা, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কর্মী, ভাষাসংগ্রামী এবং আওয়ামী লীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাবেক সভাপতি। তাঁর রাজনৈতিক জীবন বিস্তৃত ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তানবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতি পর্যন্ত।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমি নির্মাণে যে সব মনীষী কালজয়ী অবদান রেখেছেন মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম৷ তিনি একজন সুসাহিত্যিকও ছিলেন ৷ তার রচিত গ্রন্থগুলো হচ্ছে : শেষ প্রেরিত নবী, সত্যার্থে ভ্রমণে, ইসলামের স্বর্ণযুগের ছিন্ন পৃষ্ঠা, সমকালীন জীবনবোধ, স্মৃতির সৈকতে আমি, ইসমাইল হোসেন সিরাজী ইত্যাদি। তিনি বাঙালির সম্পদ তা প্রমাণ মেলে।
তার সাহিত্য চর্চা আমাদের জন্য রাজনীতির শিক্ষা।

মরহুম মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ১৯০০ সালের ২৭শে নভেম্বর পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার উল্লাপাড়া থানাধীন তারুটিয়া গ্রামে এক পীর বংশে জন্মগ্রহণ করেন৷তার পূর্বপুরুষ বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানীর বংশধর শাহ সৈয়দ দরবেশ মাহমুদ ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বাগদাদ থেকে বাংলাদেশে আসেন। শৈশব থেকেই তার মধ্যে দেশপ্রেমের উন্মেষ ঘটে ৷ মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি জমিদার মহাজনদের বিরুদ্ধে অসহায় দুধ বিক্রেতাদের সংগঠিত করে দুধের ন্যায্যমূল্য প্রদানে মহাজনদের বাধ্য করেন ৷ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তিনি উপমহাদেশের বিভিন্ন ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। বিতর্ক ও যুক্তিতর্কে অসাধারণ দক্ষতার কারণে তিনি ‘তর্কবাগীশ’ উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। ১৯২২ সালের সলঙ্গা কৃষক আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে আছে এবং এ ঘটনায় তিনি কারাবরণ করেন।

পরবর্তীতে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং ১৯৩৭ ও ১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগের বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থান ও পূর্ব বাংলার মানুষের ওপর বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি ক্রমেই সোচ্চার হয়ে ওঠেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়। ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর খবর আইন পরিষদে পৌঁছালে তিনি অধিবেশন স্থগিত করে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দাবি জানান। সরকার তাঁর দাবি উপেক্ষা করলে তিনি অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন এবং মুসলিম লীগ সংসদীয় দল থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনা তাঁকে ভাষা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিবাদী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

ভাষা আন্দোলনের পর তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হন। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদের সদস্য হন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় আইনসভায় বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৫৭ সালে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে ন্যাপ গঠন করার পর তর্কবাগীশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আসেন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন; তাঁর সঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তখন ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই সময়টি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিকাশ এবং পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।

তবে তর্কবাগীশের রাজনৈতিক অবস্থান সবসময় একরৈখিক ছিল না। ষাটের দশকে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হলে তিনিও বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি আবার ছয় দফাপন্থী আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পরও তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি সভাপতিত্ব করেন। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পরও তর্কবাগীশ রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। ১৯৭৬ সালে তিনি গণ আজাদী লীগ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৩ সালে গঠিত ১৫ দলীয় জোটের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি ছিলেন ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত একজন মাওলানা, কিন্তু একই সঙ্গে বাংলা ভাষার অধিকার, গণতন্ত্র, বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মী। ফলে তাঁকে কেবল আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বা ভাষা আন্দোলনের নেতা হিসেবে দেখলে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না।

মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ ছিলেন এমন এক রাজনৈতিক প্রজন্মের প্রতিনিধি, যাঁরা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঙালির
অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভূমিকা রেখেছেন।

জাতীয় ইতিহাসের এই বরেন্য ব্যক্তিত্ব ও মহান এই জাতিয় নেতা ১৯৮৬ সালের ২০শে আগস্ট পরলোক গমন করেন৷
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালে তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।

আদর্শিক ও মেধাবী রাজনীতির বরপুত্র হিসেবে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন,ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন সহ সব কিছুতে প্রথম সারির নেতা হিসেবে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে প্রমাণ করেছে তিনি দেশপ্রেমিক ও বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। তার কর্ম তাকে আজীবন শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় তাকে আজীবন স্মরণ করবে।সকল শ্রেণির মানুষের নিকট তিনি শ্রদ্ধার পাত্র।
তার নেতৃত্ব, কর্ম,ইতিহাস তাকে চির অম্লান, চির স্মরণীয় করে রাখবে।তার আদর্শ ধারণ করে আগামী প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে হবে বহুদূর। তিনি বাঙালির নেতা, তিনি বাঙালির সম্পদ,তিনি আদর্শিক রাজনীতির বরপুত্র। স্যালুট বীর, স্যালুট জননেতা।।

লেখক – তসলিম উদ্দীন রানা, সদস্য,অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটি,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
সাবেক ছাত্রনেতা, লেখক, গবেষক ও অধ্যাপক।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট