1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সুকন্ঠ সংগীত বিদ্যার্থী পরিষদের নজরুল বর্ষ পালন। বাঙালী জাতীয় সত্ত্বার অবিচ্ছেদ্য অংশ শেরে বাংলা একে ফজলুল হক- তসলিম উদ্দীন রানা বোয়ালখালীতে সাড়ে ৬ হাজার গাছ রোপণ বোয়ালখালীতে মাদক বিক্রির দায়ে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড এক দিনে এক লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: ভূজপুরে ফলজ গাছ লাগালেন ইউপি চেয়ারম্যান শিপন বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র লাল বড়ুয়া পরলোকে দুবাইয়ে সিআইপি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত সৃজনে সাফল্যে ৩৯ পেরিয়ে চার দশকে চট্টল স্লোগানে চট্টল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত। আহলা দরবার শরীফ ইসলাম মওলা (ক.)-এর ৪৪তম ওরশ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা “সন্ত্রাস নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে” — চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম

বাঙালী জাতীয় সত্ত্বার অবিচ্ছেদ্য অংশ শেরে বাংলা একে ফজলুল হক- তসলিম উদ্দীন রানা

  • সময় মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩১ পঠিত

 

আবুল কাশেম ফজলুল হক (জন্ম: ২৬ অক্টোবর ১৮৭৩ – মৃত্যু: ২৭ এপ্রিল ১৯৬২) একজন বাঙালি আইনজীবী ও লেখক এবং জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি।
বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাঙালি কূটনীতিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের নিকট শের-ই-বাংলা এবং ‘হক সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক অনেক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার মধ্যে কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (১৯৫৫), পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর (১৯৫৬-১৯৫৮) অন্যতম। যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বাংলায় তিনি কৃষক প্রজা পার্টি মাধ্যমে নিচু জাতের হিন্দু ও মুসলমান উভয় কৃষকদের স্বার্থের পক্ষেই সওয়াল করতেন। এমনকি মুসলিম লীগের সঙ্গে কৃষক প্রজা পার্টির লড়াইও চলেছিলো।

বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান অশ্বিনীকুমার দত্ত এ. কে. ফজলুল হককে কমিশনার পদে প্রার্থী হবার আহবান জানান। এ. কে. ফজলুল হক পৌরসভা ও জেলা বোর্ডের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্ব্ব্বিতা করেন এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে সদস্য নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমেই এ. কে. ফজলুল হকের রাজনৈতিক জীবনের সূত্রপাত।আর শেরে বাংলা রাজনীতির থেকে জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সুত্রপাত হয়।এটা তার জীবনের টানিং পয়েন্ট।

১৯১৩ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে এ. কে. ফজলুল হক বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯১৫ সালে পুনরায় ঢাকা বিভাগ থেকে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯১৩ থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ পরিষদের সভায় মোট ১৪৮ বার বক্তৃতা করেন। ১৪৮ বার বক্তৃতার ভেতর ১২৮ বার তিনি দাঁড়িয়েছিলেন মুসলমানদের শিক্ষা সম্পর্কে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য। তার অদম্য চেষ্টার ফলে ১৯১৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কারমাইকেল ও টেইলার হোস্টেল স্থাপন করা হয়েছিল। তৎকালীন শিক্ষা বিভাগের ডি.পি.আই কর্ণেল সাহেব তখন এ কে ফজলুল হকের শিক্ষা বিষয়ক উদ্যোগের প্রশংসা করে তাকে বাংলার “বেন্থাম” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার আহসান মঞ্জিলে অল ইন্ডিয়া মুসলিম এডুকেশন কনফারেন্সে অংশ গ্রহণ করেন এ কে ফজলুল হক ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ নিয়ে বাংলার জনগণ বিভক্ত হয়ে পড়লে, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ উপলব্ধি করেন মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি সংগঠন দরকার। এই চিন্তা থেকেই ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর নবাব সলিমুল্লাহ ঢাকায় অল ইন্ডিয়া মুসলিম এডুকেশন কনফারেন্স আহ্বান করেন। এই সম্মেলনে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সভাপতি ছিলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ নিজে এবং যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন নবাব ভিকারুল মুলক এবং আবুল কাশেম ফজলুল হক। সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ঢাকার আহসান মঞ্জিল-এ। এই কনফারেন্সে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ নিখিল ভারত মুসলিম লীগ নামে রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাব পেশ করেন ও সেই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। অবশেষে ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের যাত্রা শুরু হয়।

১৯১২ সালে এ. কে. ফজলুল হক মুসলিম লীগে যোগ দেন। কিন্তু এই সংগঠনের সাথে সাংগঠনিক নানা বিষয়ে তার বিরোধ বাধে। ১৯১৪ সালের ঢাকার আহসান-উল্লাহ-ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল বর্তমানে বুয়েট প্রাঙ্গণে মুসলিম লীগের প্রাদেশিক বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে এ. কে. ফজলুল হক প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগের যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯১৮ সালে দিল্লীতে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাঙালিদের মধ্যে তিনিই একমাত্র নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। ১৯১৯ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সভাপতির পদ লাভ করেন।
১৯১৪ সালে এ কে ফজলুল হক নিখিল ভারত কংগ্রেস দলে যোগ দেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস দলের নেতা হয়ে উঠেন। ১৯১৮ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
এ. কে. ফজলুল হক খেলাফত আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর খেলাফত আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। এ. কে. ফজলুল হক নিখিল ভারত খেলাফত কমিটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯২২ সালে মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলে এ. কে. ফজলুল হক খুলনা উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং নির্বাচিত হন। ১৯২৪ সালে খুলনা অঞ্চল থকে তিনি পুনরায় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং এ সময় বাংলার গভর্নর ছিলেন লিটন, তিনি এ কে ফজলুল হক কে বাংলার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিয়োগ করেন। ১৯২৩ সালে চিত্তরঞ্জন দাশ ও মতিলাল নেহেরু-এর নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিল স্বরাজ্যদল। এই দলের অন্যতম কর্মসূচি ছিলো আইনসভায় নির্বাচিত হয়ে সরকারি নীতির বিরোধিতা সহ সরকারি বাজেট বা আয়-ব্যয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা। স্বরাজ্য পার্টি ১৯২৪ সালের বাজেটের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে।
এ সময় ১৯২৪ সালের ১ আগস্ট এ. কে. ফজলুল হক মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন।

সিংহের মতো কলিজা আর বাঘের মতো গর্জন…
বাঙালির ইতিহাসের একমাত্র বাঘ, যার গর্জনে ব্রিটিশদের চেয়ার কেঁপে উঠতো, তিনি এ কে ফজলুল হক।দ্য রিয়েল ‘টাইগার অফ বেঙ্গল’শেরে বাংলা।
পলিটিক্স, পড়াশোনা, পার্সোনালিটি আর কলিজার সাইজ সবদিক থেকে উনি ছিলেন লাখে এক পিস। 🖤

ফজলুল হক সাহেবের ব্রেন ছিল একটা সুপার কম্পিউটার। উনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে একই সাথে গণিত, রসায়ন আর পদার্থবিজ্ঞানে ট্রিপল অনার্স করেছিলেন!
হক সাহেব যখন প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়তেন, তখন এক অহংকারী অমুসলিম বন্ধু উনাকে খোঁচা দিয়ে বলেছিলেন, “মুসলিমদের মাথায় তো গোবর ভরা, ওরা ম্যাথমেটিক্স বা কঠিন কোনো সাবজেক্টে মাস্টার্স করার যোগ্যতা রাখে না।”
ব্যস! হক সাহেবের ইগোতে লেগে গেল।
উনি অন-স্পট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন। চ্যালেঞ্জ তো জিতলেনই আর তিনিই ম্যাথ-এ মাস্টার্স করে অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলিম। কিন্তু টুইস্ট এখানে না…
টুইস্ট হলো, এরপর এক বন্ধু উনাকে বললেন, “তুমি তো শুধু সাইন্স বোঝো, আর্টসের কঠিন ভাষা যেমন ফার্সি তুমি জীবনেও বুঝবে না।”
হক সাহেব আবার চ্যালেঞ্জ নিলেন। মাত্র ৬ মাসের প্রস্তুতিতে পুরো ফার্সি ভাষা মুখস্থ করে এমএ পরীক্ষায় ‘ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট’ হয়ে সবাইকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিয়েছিলেন! একেই বলে আসল জেদ।

উনার নামের আগে যে ‘শেরে বাংলা’ বা ‘বাংলার বাঘ’ বসানো হচ্ছে, এটা কোনো ফাও উপাধি না। ব্রিটিশ লর্ড আর বড় বড় সাহেবরা যখন অহংকারে মাটিতে পা ফেলতো না, হক সাহেব তখন তাদের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতেন। একবার লর্ড কার্জন উনার সাহস পরীক্ষা করতে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তুমি কি বাঘের সামনে দাঁড়াতে পারবে?” ফজলুল হক সাথে সাথে বলেছিলেন, “হ্যাঁ পারবো, কারণ আমি নিজেই বাঘ!” উনার এই ড্যাম কেয়ার অ্যাটিটিউডের জন্যই জনতা উনার নাম দেয় ‘বাংলার বাঘ’।

কলকাতা হাই কোর্টে তখন ব্রিটিশ জাজদের রাজত্ব। একদিন এক জটিল মামলায় হক সাহেব গরিব এক আসামির পক্ষে লড়ছিলেন। ব্রিটিশ জাজ উনার তুখোড় যুক্তি দেখে কোণঠাসা হয়ে মেজাজ হারিয়ে ফেললেন। জাজ রেগে চিৎকার করে বললেন, “মি. হক, ডু নট টিচ মি ল!” (আমাকে আইন শেখাতে আসবেন না)।
হক সাহেব এক সেকেন্ডও সময় নেননি। বুক চিতিয়ে, ব্রিটিশ জাজের চোখে চোখ রেখে সিংহের মতো গর্জে উঠে বলেছিলেন, “মাই লর্ড, আই অ্যাম নট টিচিং ইউ ল, আই অ্যাম জাস্ট রিমাইন্ডিং ইউ! বিকজ আই নো দ্য ল, অ্যান্ড ইউ ডোন্ট!”
(মাই লর্ড, আমি আপনাকে আইন শেখাচ্ছি না, মনে করিয়ে দিচ্ছি। কারণ আইনটা আমি জানি, আপনি জানেন না)। পুরো কোর্টরুম নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল! একটা ব্রিটিশ জাজের মুখে চড় মারার মতো এই কলিজা তৎকালীন পুরো উপমহাদেশে আর কোনো উকিলের ছিল না।

উনার কলিজার সাইজ ছিলো আকাশছোঁয়া। হাই কোর্টের নামী উকিল আর অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হয়ে উনি লাখ লাখ টাকা আয় করতেন, কিন্তু মাস শেষে উনার ব্যাংক ব্যালেন্স থাকত জিরো!
কারণ সকালে পকেটে হাজার হাজার টাকা নিয়ে বের হতেন, আর রাস্তায় কোনো গরিব, দুঃখী বা অভাবী ছাত্র দেখলেই সব বিলিয়ে দিতেন। এমনকি শীতের দিনে নিজের গায়ের দামী শাল আর কোট পর্যন্ত খুলে অন্যকে দিয়ে খালি গায়ে বাড়ি ফেরার রেকর্ড আছে উনার! নিজের বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেও উনি মানুষের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন।

তৎকালীন সময়ে হিন্দু জমিদার আর সুদখোর মহাজনরা বাংলার সাধারণ মুসলিম ও নিম্নবর্ণের কৃষকদের চুষে খাচ্ছিল। সুদের জালে আটকে কৃষকরা জমি-জমা হারিয়ে না খেয়ে মরছিল। হক সাহেব ক্ষমতায় এসেই এক ঝটকায় ‘ঋণ সালিশি বোর্ড’ আর ‘বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন’ বানিয়ে দিলেন। লাখ লাখ কৃষকের কোটি কোটি টাকার ঋণ জাস্ট মাফ! জমিদারদের অত্যাচার লাটে উঠে গেল। এই এক আইনের কারণে বাংলার কোটি কোটি কৃষক পরিবার ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যায়, আর তারা ভালোবেসে উনাকে ডাকতে শুরু করে ‘হক সাহেব’।

তখনকার দিনে একটা চরম নোংরা সিস্টেম ছিলো, পরীক্ষার খাতায় স্টুডেন্টদের নাম লেখা লাগতো। মুসলিম বা দলিত কোনো নাম দেখলেই অনেক সাম্প্রদায়িক শিক্ষক খাতার নাম্বার কেটে দিতেন। হক সাহেব যখন ক্ষমতায় এলেন, উনি এই অবিচার এক ঝটকায় বন্ধ করলেন। উনি নিয়ম করলেন, পরীক্ষার খাতায় কোনো নাম থাকবে না, শুধু রোল নাম্বার থাকবে! আজকের দিনে আমরা যে পরীক্ষার খাতায় নাম না লিখে রোল বা রেজিস্ট্রেশন নাম্বার লিখি, এই ফেয়ার সিস্টেমটা কিন্তু শেরে বাংলারই আবিষ্কার!
মুসলিম সমাজকে শিক্ষিত করতে উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফজলুল হক হল’, কলকাতার ‘ইসলামিয়া কলেজ’ (বর্তমান মাওলানা আজাদ কলেজ), লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ, ইডেন কলেজ আর তেজগাঁওয়ের কৃষি কলেজ বানিয়েছেন। উনি না থাকলে বাঙালি আজকে শিক্ষার আলোই দেখতো না।

এক লাইফে একটা মানুষ কত কী হতে পারে! উনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী, পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর। মানে রাষ্ট্রপতি পদটা ছাড়া তৎকালীন উপমহাদেশের রাজনীতির সব টপ চেয়ার উনি একাই হোল্ড করছেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে উনার যুক্তফ্রন্টের ঝড়ে মুসলিম লীগ খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল।

১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর তাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক হেলাল-ই-পাকিস্তান খেতাব দেওয়া হয়। ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল যখন এই বাঘ ৮৮ বছর বয়সে মা* যান, তখন ঢাকায় উনার জানাজায় এত মানুষ হয়েছিল যে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঐতিহাসিক তিন নেতার মাজার-এ উনি শুয়ে আছেন।

শেরে বাংলার কথা লেখা শুরু করলে শেষ করা যাবে না….সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবী আর মাথায় ফেজ টুপি পরা এই মানুষটার কলিজাটা ছিল পিওর সোনার তৈরি। ব্রিটিশদের কাঁপানো আর মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এই রিয়েল লাইফ সুপারহিরোর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।যুগে যুগে বাঙালী জাতি অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা একে ফজলুল হক আমাদের নিকট শ্রদ্ধা ও ভালবাসার প্রতিক হিসেবে বেচে আছে থাকবে। তিনি বাঙালী জাতি সত্ত্বার অবিচ্ছেদ্য অংশ।তাকে ছাড়া বাঙালী ইতিহাস রচিত হবে না। তিনি ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও মহানায়ক। এদেশের জন্য তার কাজ গুলো তাকে তাকে অবিস্মরণীয় করে রাখবে।
তিনি কর্ম দিয়ে প্রমাণ করেছে তিনিই ইতিহাস। তিনি আসলে দেশপ্রেমিক,খাটি বাঙালী ও বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। সকলের নিকট শ্রদ্ধা ও ভালবাসা নেতা হিসেবে তিনি চির অম্লান।

লেখক –
সাবেক ছাত্রনেতা,বিশিষ্ট লেখক,গবেষক,
কলামিস্ট ও অধ্যাপক।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট