1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রবাসীদের নিয়ে দুবাই পুলিশের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান নব পণ্ডিত বিহারে প্রবারণা ও কঠিন চীবর দান উদযাপন পরিষদ গঠিত চট্টগ্রাম সিনিয়র’স প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি ইস্কান্দার, সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন গরুর রশিতে লেগে সিএনজি দুর্ঘটনা, গরুর মালিক পক্ষের হামলায় পুলিশের এএসআইসহ আহত ৪ কিসের এত বড়াই আমাদের বলো? -নোহা নেছার অন্নি  ৬৯তম CMC Day উপলক্ষে চমেক হাসপাতালের ৭৯ নম্বর ওয়ার্ডে পার্কভিউ হসপিটালের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অপ্রতিম -অভিলাষ মাহমুদ বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে ১৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত লন্ডনে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ যুক্তরাজ্য শাখার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার প্রবীণ আলেম মাওলানা এজহার সাহেব আর নেই

চট্টগ্রামে ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও

  • সময় বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ২০২ পঠিত

 

মোঃ মনিরুল ইসলাম রিয়াদ
স্টাফ রিপোর্টার

চট্টগ্রামের লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিপুল পরিমাণ এই অর্থের ‘ঘাটতি’ বিশাল পরিসরে পাওয়া গেছে। ব্যাংক উল্লেখ করেছে যে, টাকা বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের অংশ বলে জানা গেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন মো. জাফরুল্লাহ তানভীর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে যে, ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা যদি সত্যিই ভল্ট থেকে সরানো হয়ে থাকে, তবে এত বিপুল অর্থের ঘাটতি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কেন শনাক্ত করা হলো না? জমা ও ভোল্টের হিসাব প্রতিদিন কে যাচাই করতেন? শাখা ব্যবস্থাপনার উপর নজর কোথায় ছিল?

কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার নম্বর হলো ২২/৪৩৮। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী হলেন অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ (৫৮)। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন। উল্লেখ্য, কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্ব পালন করতেন।

৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পর নগদ অর্থের হিসাব ও ভল্টে রাখা নগদ অর্থের হিসাব মিলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। এরপর অনুষ্ঠিত হিসাব-নিকাশ, ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কামরুল হোসেনকে ঘাটতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। পরে ব্যাংক পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় তিনি ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।

মামলার দ্বিতীয় আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ ব্যাংকের এজাহারে থাকা বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নয়। সে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করে। অথচ তাকে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমার ছেলের কাছে এত টাকা দেওয়ার কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণও দেখানো হয়নি।

তিনি আরও জানান, ৯ আগস্ট রাত ১টারদিকে আমার স্ত্রীর মোবাইলে ব্যাংক থেকে ফোন করে বলা হয়, আমার ছেলে লালদীঘি ব্যাংকে আটক আছে। টাকা নিয়ে যেতে বলা হলেও কীসের টাকা, কত টাকা— কিছুই পরিষ্কার করে বলা হয়নি। আমার ছেলে ফোনে কথা বলতে পারেনি। এর আগে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনই অন্যদিনের মতো আমার ছেলেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান। রাতেই আমরা সাত-আটজন আত্মীয়স্বজন নিয়ে ব্যাংকে যাই। কিন্তু ব্যাংকের লোকজন আমাদের ভিতরে ঢুকতে দেয়নি। পরে আমরা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে ওসিকে বিষয়টি জানাই। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাত আনুমানিক ২টার দিকে আবার ব্যাংকে গেলে প্রথমে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ কৌশলে ব্যাংকে প্রবেশ করে আমার ছেলেসহ কামরুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার। ব্যাংকের ভল্টে যদি ১ জুন ২০২৫ থেকে ৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন বিষয়টি ব্যাংকের নিয়মিত হিসাব ও তদারকিতে ধরা পড়েনি কেন? তাদের দাবি, একটি ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেন শেষ হওয়ার পর ক্যাশ ও ভল্টের হিসাব মেলানোর নিয়ম রয়েছে। তাহলে এক বছরের বেশি সময় ধরে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি কীভাবে অজানা থাকল— এ প্রশ্নের উত্তরও তদন্তে বের করা প্রয়োজন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট