
মোঃ মনিরুল ইসলাম রিয়াদ
স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন আরেফিন নগর এলাকায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মোজাদ্দেদিয়া দরবার শরীফের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস (ধর্মীয় শোভাযাত্রা) ও সুফি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সকালে আরেফিন নগর মোজাদ্দেদিয়া দরবার শরীফ ও খানকা প্রাঙ্গণ থেকে জুলুসটি শুরু হয়। এরপর আশপাশের প্রধান প্রধান সড়ক ও বায়েজিদ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দরবার শরীফ মাঠে এসে এটি শেষ হয়। জুলুসে নেতৃত্ব দেন দরবার শরীফের পীর সাহেব আলহাজ্ব হযরত শাহ্ সূফী মুহাম্মদ আব্দুল হাকীম (খাজা হাবীব) নকশেবন্দী, মোজাদ্দেদী, চিশতী, আল-কাদেরী (মাঃজিঃআঃ)ও ওলামায়ে কেরাম।
নাত-এ-রাসুলে মুখরিত রাজপথজুলুসে অংশগ্রহণকারী হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের হাতে ছিল পবিত্র কালেমা খচিত পতাকা, ইসলামি বাণী সংবলিত ব্যানার ও বর্ণিল ফেস্টুন। পুরো এলাকা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ এবং ‘নারায়ে রিসালাত, ইয়া রাসুলাল্লাহ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে。
কাফেলা থেকে আশেকানে রাসুলরা সমস্বরে সুমধুর কণ্ঠে দুরুদ ও নাত-এ-রাসুল পরিবেশন করেন। সুন্নাহ ও সুফিবাদের ওপর আলোচনা, জুলুস শেষে দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে এক আধ্যাত্মিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় আরেফিন নগর মোজাদ্দেদিয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব
আলহাজ্ব হযরত শাহ্ সূফী মুহাম্মদ আব্দুল হাকীম (খাজা হাবীব তাঁর প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) শুধু কোনো সাধারণ উৎসব বা আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির মুক্তির দিন। বর্তমানের অশান্ত ও কলহপূর্ণ পৃথিবীতে শান্তি, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব ফিরিয়ে আনতে হলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মোজাদ্দেদিয়া তরিকার মূল শিক্ষাই হলো আত্মশুদ্ধি অর্জন ও মানবসেবা। ইসলামের মূল বাণী—শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার জন্য তিনি উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও আশেকানে রাসুলদের প্রতি আহ্বান জানান।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমত। বর্তমান অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি, সাম্য ও মানবিকতা ফিরিয়ে আনতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও সুফিবাদের শিক্ষার বিকল্প নেই। বক্তারা ইসলামের মূল বাণী—শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আখেরি মোনাজাত সবশেষে মিলাদ ও কিয়াম শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, সমৃদ্ধি এবং শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে দেশ ও প্রবাসের হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান অংশ নেন।
Leave a Reply