
নিজস্ব প্রতিবেদক, বোয়ালখালী:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও নিয়মিত চালক রয়েছেন একজন। সেই চালক ছুটিতে থাকায় বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স পেতে জটিলতায় পড়েন এক গুরুতর আহত রোগীর স্বজনেরা। মঙ্গলবার দুপুরে গাছ থেকে পড়ে আহত ওই রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানোর সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আহত রাশেদ আলম (৩৩) উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের আবুল কালামের ছেলে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে পোপাদিয়া ইউনিয়নের আকুবদণ্ডী এলাকার ব্যাগের টেকে যন্ত্রচালিত করাত দিয়ে গাছ কাটতে গিয়ে পড়ে আহত হন তিনি। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে চমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন রাশেদ। তাঁর ডান হাত, দুই পা ও মাথায় আঘাত লাগে। এ সময় তাঁকে চমেকে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনেরা।
রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ওহিদুল আলম এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তিন মিনিট আট সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে আহত রাশেদকে যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখা যায়।
ওহিদুল আলমের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্সচালক চার দিনের ছুটিতে ঢাকায় যাওয়ায় বিকল্প চালকের ব্যবস্থা ছিল না। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও তাৎক্ষণিক সমাধান পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি, রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য জরুরি বিভাগের বেডে দেড় ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উম্মে শারমিন বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত ছিল। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে চমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মামুনুল হক মামুন বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়মিত অ্যাম্বুলেন্সচালক সোহাগ অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ায় ছুটিতে রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্য একটি গাড়ির চালককে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য দুটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় বিকল্প চালকসহ সংশ্লিষ্ট তিনটি অ্যাম্বুলেন্সই রোগী নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে ছিল। অন্য একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতা থাকায় সেটির চালক প্রথমে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন। রোগীর স্বজনেরাও কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিকল্প অ্যাম্বুলেন্সগুলো শহরে থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ধরনের ঘটনা সচরাচর ঘটে না বলেও জানান তিনি।
Leave a Reply