
বোয়ালখালী প্রতিনিধি :
ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধার স্বাক্ষর রেখে আসছে সাঈদাতুন নূর মুনতাহা। প্রথম শ্রেণি থেকে প্রতিটি শ্রেণিতেই প্রথম স্থান অধিকার করেছে সে। পঞ্চম শ্রেণিতে পেয়েছে ট্যালেন্টপুলে সরকারি বৃত্তি। দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের পর এবার আলিম পরীক্ষাতেও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে মুনতাহা। তার প্রাপ্ত নম্বর ১ হাজার ৫০০-এর মধ্যে ১ হাজার ২৬৩। ভবিষ্যতে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। সাঈদাতুন নূর মুনতাহা চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কধুরখীল এলাকার লালমিয়া শিকদার বাড়ির বাসিন্দা। বাবা মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াছ সিকদার এবং মা নূর জাহান বেগম। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। মুনতাহার শিক্ষাজীবনের শুরু আল আমিন ইসলামিক ইনস্টিটিউটে। এরপর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আলিম পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে কধুরখীল ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায়। প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নিয়মিত প্রথম স্থান ধরে রেখেছে সে। এবারের আলিম পরীক্ষায় বোয়ালখালী উপজেলার মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থী মুনতাহা। নিজের এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মা ও শিক্ষকদের অবদানের কথা জানিয়ে সে বলে, তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার কারণেই এমন ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। মুনতাহার এমন সাফল্যে আনন্দিত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মুজিবুল হক। তিনি বলেন, মুনতাহা অত্যন্ত মেধাবী ও মনোযোগী শিক্ষার্থী। পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ এবং নিয়মিত অধ্যবসায় তাকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। তার এই ফলাফলে আমরা গর্বিত। মেয়ের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে বাবা মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াছ সিকদার বলেন, ছোটবেলা থেকেই মুনতাহা পড়াশোনায় মনোযোগী। তার এই অর্জনে বাবা-মা হিসেবে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে সবার দোয়া কামনা করছি। মুনতাহার স্বপ্ন ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়া। শিক্ষাজীবনে অর্জিত জ্ঞান দিয়ে অন্যদের আলোকিত করতে চায় সে। মুনতাহার সাফল্যের পাশাপাশি কধুরখীল ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ফলাফলও সন্তোষজনক। এ মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় ৩৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। উল্লেখ্য, বোয়ালখালী উপজেলার ছয়টি মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৩৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ৯৯ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৩৭ জন। ছয়টি মাদ্রাসার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র একজন, আর সেই শিক্ষার্থী সাঈদাতুন নূর মুনতাহা।
Leave a Reply