
আলমগীর আলম, পটিয়া।
পটিয়া উপজেলার ১৬ নম্বর কচুয়াই ইউনিয়ন। কৃষি, শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত এই জনপদকে একটি মর্যাদাশীল, আধুনিক ও উন্নয়নের মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করার স্বপ্ন দেখছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবর ফারুকী।
দীর্ঘদিন ধরে নীরবে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি।
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এলাকায় একজন জনবান্ধব সমাজসেবক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ফারুকীপাড়ার কৃতি সন্তান বাবর ফারুকী বিশিষ্ট সমাজসেবক এস. আর. ফারুকীর সুযোগ্য সন্তান।
পারিবারিকভাবেই জনসেবার আদর্শে বেড়ে ওঠা এই সমাজসেবক মনে করেন, মানুষের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি এবং জনসেবাই তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য।
দৈনিক চট্টগ্রামের খবরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বাবর ফারুকী বলেন, “জনপ্রতিনিধিত্ব কোনো ক্ষমতার আসন নয়, এটি মানুষের সেবা করার একটি মহান দায়িত্ব। জনগণ যদি আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে কচুয়াই ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব।”
তিনি জানান, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হবে।
সড়ক, সেতু, কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন।
তরুণদের প্রসঙ্গে বাবর ফারুকী বলেন, একটি উন্নত সমাজ গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তাই তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধ থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সমাজসেবাকে তিনি রাজনীতির অংশ নয়, বরং মানবিক দায়িত্ব হিসেবে দেখেন।
তাঁর ভাষায়, “অসহায়, দরিদ্র, বিধবা, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকা আমার নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাই সবচেয়ে বড় অর্জন।”
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা বৈষম্যের সুযোগ রাখা হবে না।
কচুয়াইবাসীর উদ্দেশে বাবর ফারুকী বলেন, “রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা যদি সবাই একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে কচুয়াই ইউনিয়নকে উপজেলার অন্যতম মর্যাদাশীল ও উন্নয়নের মডেল এলাকায় পরিণত করা সম্ভব।
আমি সবার সহযোগিতা, পরামর্শ ও দোয়া কামনা করছি।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাবর ফারুকী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। সম্প্রতি বন্যায় জলাবদ্ধতা আটকে পড়া মানুষের মাঝে ত্রান নিয়ে ছুটে চলেছেন ইউনিয়নের প্রতিটি পাড়া মহল্লায়।
শিক্ষা সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়রা উল্লেখ করেন।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই হবে জনগণের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।
শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ই নির্ধারণ করবে কে নেতৃত্ব দেবেন কচুয়াই ইউনিয়নকে।
কচুয়াই ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, সুশাসনভিত্তিক ও জনবান্ধব ইউনিয়নে গড়ে তোলার যে রূপরেখা বাবর ফারুকী তুলে ধরেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে এলাকার অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।
Leave a Reply