1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বেকারত্ব দিন দিন যুব সমাজকে ছুরি-ছিনতাইয়ের পথে ঠেলে দিচ্ছে কৃষক, ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা: কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’: সাঁওতাল জীবন ও প্রতিবাদের গল্প নিয়ে নাটক পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুদকের ফাঁদ: ঘুষের টাকাসহ সাব-রেজিস্ট্রারসহ গ্রেফতার ৩ বোয়ালখালীতে মাদক সেবনের দায়ে ৩ জনের কারাদণ্ড র‍্যাগিং নয়, সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক হোক সম্মান, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের – লায়ন উজ্জল কান্তি বড়ুয়া চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইউনিট-২ চালুসহ ডেঙ্গু চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং এরিস্টোক্রেট’র (২০২৬-২০২৭) এর কার্যকরী কমিটি গঠিত পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের  সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষ চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের পটিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, আহত ৩

বেকারত্ব দিন দিন যুব সমাজকে ছুরি-ছিনতাইয়ের পথে ঠেলে দিচ্ছে

  • সময় মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৪ পঠিত

 

একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার তরুণ সমাজ। তরুণদের মেধা, শ্রম, সাহস, উদ্ভাবনী শক্তি ও কর্মদক্ষতার ওপর নির্ভর করে একটি দেশের ভবিষ্যৎ। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে, অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু সেই তরুণ সমাজ যখন দীর্ঘদিন কর্মহীনতা, হতাশা, অর্থনৈতিক সংকট ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে থাকে, তখন এর প্রভাব শুধু একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে পুরো সমাজে।

বর্তমানে আমাদের সমাজে তরুণদের একটি অংশের মধ্যে হতাশা ক্রমেই বাড়ছে। শিক্ষাজীবন শেষ করার পরও অনেক তরুণ দীর্ঘদিন চাকরি বা উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। কেউ বছরের পর বছর চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিচ্ছেন, কেউ আবার নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেকার সময় পার করছেন। পরিবার ও সমাজের নানা প্রশ্ন, অর্থনৈতিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক তরুণের মানসিক অবস্থাকে কঠিন করে তুলছে।

এই বাস্তবতার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধী চক্র ও মাদক ব্যবসায়ীরা। দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভ দেখিয়ে তরুণদের একটি অংশকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। কোথাও ছিনতাই, কোথাও চুরি, কোথাও মাদক পরিবহন কিংবা কিশোর ও তরুণদের বিভিন্ন অপরাধী গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন করছে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলা প্রয়োজন বেকারত্ব কখনো অপরাধের অজুহাত হতে পারে না। একজন মানুষ বেকার হলেই সে অপরাধী হয়ে যায় না। দেশের অসংখ্য বেকার তরুণ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সততা, পরিশ্রম ও আত্মসম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করছেন। তাই অপরাধের দায় অবশ্যই অপরাধীর। কিন্তু অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধ করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

আমরা যদি শুধু ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করি, কিন্তু কেন নতুন নতুন তরুণ অপরাধের ঝুঁকিতে পড়ছে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে না দেখি, তাহলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

একজন তরুণ যখন দিনের পর দিন কাজের সন্ধানে ঘুরে বেড়ান এবং বারবার ব্যর্থ হন, তখন তার মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণদের ওপর পারিবারিক দায়িত্বও থাকে। বাবা-মায়ের চিকিৎসা, ছোট ভাই-বোনের পড়াশোনা, নিজের জীবন গুছিয়ে নেওয়া সবকিছুর জন্য অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু আয় করার সুযোগ না থাকলে সেই তরুণের সামনে এক ধরনের অন্ধকার ভবিষ্যৎ তৈরি হয়।

আর এই জায়গাটিতেই অপরাধী চক্রগুলো সুযোগ নেয়।

কেউ তাকে বলে, “একটি কাজ করলেই দ্রুত টাকা পাওয়া যাবে।” কেউ মাদকের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয়। কেউ আবার ছিনতাই বা চুরির মতো অপরাধে প্রলুব্ধ করে। শুরুতে সামান্য অর্থের জন্য অপরাধে যুক্ত হওয়া একজন তরুণ ধীরে ধীরে আরও বড় অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে। একসময় অপরাধ তার স্বাভাবিক জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়।

তাই বেকারত্বকে শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি সামাজিক নিরাপত্তা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

আমাদের প্রশ্ন করতে হবে একজন শিক্ষিত তরুণ কেন বছরের পর বছর চাকরির অপেক্ষায় থাকবে? কেন একজন কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ তার দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে না? কেন একজন তরুণ উদ্যোক্তা হতে চাইলে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে না? কেন একজন তরুণ নিজের এলাকায় কাজের সুযোগ না পেয়ে দূর-দূরান্তে ছুটে বেড়াবে?

শুধু সরকারি চাকরির ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি তরুণদের এমন দক্ষতা দিতে হবে, যা দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও তাদের কাজে লাগবে।

কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। একজন তরুণ যদি ইলেকট্রিক্যাল কাজ, গাড়ি মেরামত, মোটরসাইকেল সার্ভিসিং, কম্পিউটার, গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল সার্ভিসিং, কৃষি প্রযুক্তি কিংবা অন্য কোনো পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে পারে, তাহলে তার সামনে আয়ের একাধিক পথ তৈরি হতে পারে।

কিন্তু প্রশিক্ষণ শুধু সনদ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। প্রশিক্ষণের পর কর্মসংস্থান বা আয় করার সুযোগ তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে একজন তরুণ যদি আবার কর্মহীন অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসে, তাহলে সেই প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও বাজারসুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একজন তরুণ হয়তো বড় ব্যবসা শুরু করতে পারবে না, কিন্তু ছোট একটি উদ্যোগ দিয়ে নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করার পাশাপাশি অন্যদেরও কাজ দিতে পারে। এমন হাজার হাজার ছোট উদ্যোগ একত্রিত হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

এখানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিটি উপজেলা ও পৌর এলাকায় বেকার তরুণদের একটি কার্যকর ডাটাবেজ তৈরি করা যেতে পারে। কে কী বিষয়ে পড়াশোনা করেছে, কার কী দক্ষতা রয়েছে, কে উদ্যোক্তা হতে চায়, কে চাকরি খুঁজছে—এসব তথ্যের ভিত্তিতে কর্মসংস্থান সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাসস্ট্যান্ড, বাজার, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও জনসমাগমস্থলে পর্যাপ্ত নজরদারি, কার্যকর সিসিটিভি ব্যবস্থা এবং দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ছিনতাই বা চুরির ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

তবে শুধু গ্রেপ্তার করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কিশোর ও তরুণদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন, ক্রীড়া সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও তরুণদের ইতিবাচক পথে রাখার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একটি তরুণের হাতে যদি বই থাকে, খেলাধুলার সুযোগ থাকে, প্রযুক্তি শেখার সুযোগ থাকে কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে তার সময় ও শক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করা সহজ হয়।

আমাদের পরিবারগুলোকেও সচেতন হতে হবে। একজন বেকার তরুণকে প্রতিদিন অপমান করে বা অন্যের সঙ্গে তুলনা করে তার আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। বরং পরিবারের উচিত তাকে উৎসাহ দেওয়া, তার দক্ষতা চিহ্নিত করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ খুঁজতে সহযোগিতা করা।

আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন দরকার। আমরা এখনো অনেক কাজকে ছোট করে দেখি। অথচ সৎভাবে করা কোনো কাজই ছোট নয়। একজন দক্ষ কারিগর, চালক, মেকানিক, কৃষি উদ্যোক্তা, অনলাইন উদ্যোক্তা কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমাজ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। তরুণদের বোঝাতে হবে সৎ শ্রমের মর্যাদা আছে, এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য কোনো বৈধ পেশাকেই ছোট মনে করা উচিত নয়।

অন্যদিকে মাদক ব্যবসা ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। তরুণদের অপরাধে ব্যবহার করে যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু মাঠপর্যায়ের তরুণদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না; অপরাধের পেছনে থাকা সংগঠক, অর্থদাতা ও মূল হোতাদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমরা এমন একটি সমাজ চাই না, যেখানে একজন তরুণ কাজের অভাবে হতাশ হয়ে অপরাধের দিকে পা বাড়াবে। আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে একজন তরুণ নিজের যোগ্যতা দিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।

একজন তরুণকে কর্মসংস্থান দেওয়া মানে শুধু একজন মানুষকে আয় করার সুযোগ দেওয়া নয়। এর সঙ্গে একটি পরিবার নিরাপদ হয়, একটি পরিবারের অর্থনৈতিক চাপ কমে, একটি সমাজে অপরাধের ঝুঁকি কমে এবং দেশের অর্থনীতিতে নতুন শক্তি যুক্ত হয়।

তাই এখনই সময় বেকারত্বের সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার। শুধু চাকরির সংখ্যা বাড়ানো নয় দক্ষতা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা, ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিল্পায়ন এবং নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরির সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

আমাদের তরুণদের হাতে ছুরি নয়, কাজের হাতিয়ার তুলে দিতে হবে। তাদের সামনে অপরাধের রাস্তা নয়, সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে হবে। হতাশার পরিবর্তে তাদের দিতে হবে আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও সুযোগ।

কারণ আজকের তরুণই আগামী দিনের বাংলাদেশ।

তাদের স্বপ্নকে যদি আমরা সুযোগে রূপান্তর করতে পারি, তাহলে এই তরুণ সমাজই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হবে। আর যদি তাদের দীর্ঘদিন অবহেলা করি, কর্মসংস্থানের সুযোগ না বাড়াই এবং হতাশাকে বাড়তে দিই, তাহলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আমাদের সবাইকেই বহন করতে হবে।

সুতরাং বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়াই কোনো একক মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। এটি রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সমাজ এবং নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্ব।

তরুণদের হাতে অপরাধের অস্ত্র নয় দক্ষতার অস্ত্র তুলে দিতে হবে। তাদের সামনে হতাশার অন্ধকার নয় কর্মসংস্থান ও সম্ভাবনার আলো জ্বালাতে হবে।

এটাই হতে পারে নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রধান পথ।

লেখকঃ
মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী
যুগ্ম সদস্য সচিব- নাগরিক ছাত্র ঐক্য কেন্দ্রীয় সংসদ

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট