1. news@dainikchattogramerkhabor.com : Admin Admin : Admin Admin
  2. info@dainikchattogramerkhabor.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
দুবাইয়ে সিআইপি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত সৃজনে সাফল্যে ৩৯ পেরিয়ে চার দশকে চট্টল স্লোগানে চট্টল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত। আহলা দরবার শরীফ ইসলাম মওলা (ক.)-এর ৪৪তম ওরশ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা “সন্ত্রাস নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে” — চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম রাউজানে সুদর্শন মহাবিহার-অগ্রসার মহাকমপ্লেক্সে প্রবারণা উদযাপন পটিয়ায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক দারুল ইরফান হিফজুল কুরআন মাদরাসার হিফজ সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন প্রবারণা পূর্ণিমায় আমুচিয়ায় বৌদ্ধবিহার পরিদর্শন সাজিয়া এমদাদের ফানুস উড়িয়ে বোয়ালখালীতে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন পটিয়ায় প্রত্যয়ের কীর্তিমান স্মরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন

বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ডে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার,র‍্যাব-৩

  • সময় বুধবার, ২০ জুলাই, ২০২২
  • ৫০৩ পঠিত

পলাশ সেনঃ

বাংলাদেশে বহুল আলোচিত রাজধানীতে ৯ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখ রবিবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে বিবদমান দুটি পক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছিল। এ সময় ধাওয়া খেয়ে পথচারী বিশ্বজিৎ দৌড়ে প্রথমে নিকটস্থ ভবনের দোতলায় অবস্থিত একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে আশ্রয় গ্রহণ করে। দুস্কৃতকারীরা ঐক্লিনিকে বিশ্বজিতের ওপর হামলা চালিয়ে নির্বিচারে কিল-ঘুষি-লাথি মারতে থাকে।
তার গায়ে লৌহ শলকা দিয়ে সজোরে আঘাত করতে থাকে। আহত বিশ্বজিৎ প্রাণ বাঁচাতে পাশের আরেকটি ভবনে ঢুকে পড়ে। দুস্কৃতকারীরা পশ্চাদ্ধাবন করে সেখানেও বিশ্বজিতের ওপর হামলা চালায়। ১৫-২০ জনের একটি মৃত্যুকামী দল তাকে লৌহ শলাকা এবং চাপাতি দিয়ে আঘাত করতে থাকে।

উক্ত আঘাতে তার কাপড় ছিঁড়ে যায় ও সারা শরীরে রক্তের বন্যা বয়ে যায়। সে আবার পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আঘাত অব্যাহত থাকে।

এক পর্যায়ে শীর্ণকায় বিশ্বজিৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় সে উঠে দৌড় দেয়, কিন্তু শাঁখারী বাজারের একটি গলিতে গিয়ে ঢলে পড়ে যায়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় এক রিকশাওয়ালা তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক বিশ্বজিৎকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভিক্টিম বিশ্বজিৎ শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর গ্রামের দাসপাড়া মহল্লার বাসিন্দা অনন্ত দাসের ছেলে। সে ২০০৬ সালে ঢাকার শাঁখারী বাজারে নিউ আমন্ত্রণ টেইলার্সে দর্জির কাজ শুরু করে। ভিক্টিম বিশ্বজিৎ বিবদমান দুটি পক্ষের কোনটির সাথেই জড়িত ছিলেন না। তিনি জীবিকার তাগিদে ঘটনার সময় তার বাসা থেকে শাঁখারীবাজারে নিজের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।

উক্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ৯ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখ সূত্রাপুর থানায় মামলা হয়। ২০১৩ সালের ৫ই মার্চ উক্ত ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়। মামলাটি পরে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মামলার রায়ে ২১ আসামির মধ্যে ৮ জনকে মৃত্যুদন্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন।
নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আসামীরা আপিল করলে মৃত্যুদন্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদন্ড বহাল, চারজনের মৃত্যুদন্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন এবং অপর দুজনকে খালাস দিয়ে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট মহামান্য হাইকোর্ট রায় দেন।

পরবর্তীতে যাবজ্জীবন কারাদন্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে যে দুজন আপিল করলে তাঁরা খালাস পান।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৩ জানতে পারে চাঞ্চল্যকর বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোঃ কামরুল হাসান রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য র‌্যাব ৩ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।
র‍্যাব-৩ এর একটি অভিযানিক দল গত ১৭ জুলাই ২০২২ তারিখ রাতে রাজধানীর চামেলীবাগ, পল্টন এলাকা থেকে চাঞ্চল্যকর বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোঃ কামরুল হাসান (৩৫), ব্রাহ্মনবাড়িয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী জানায় যে, ঘটনার দিন বিশ্বজিৎকে প্রতিপক্ষ দলের সদস্য ভেবে তাকে তারা ধাওয়া করে। তারপর মামলার এজাহার নামীয় আসামীরা তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। বিশ্বজিৎ আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তারপর সে জানতে পারে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বিশ্বজিৎ এর মৃত্যু হয়েছে এবং উক্ত ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় মামলা হয়েছে।

এরপর সে পার্শ্ববর্তী দেশে তার নানার বাড়ির আত্মীয়ের আশ্রয়ে আত্মগোপন করে। মামলার অভিযোগ পত্র দাখিলের দুইমাস পর সে বাংলাদেশে ফিরে আসে।
কামরুল ১৯৯৪ সালে তার পিতার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তারা স্বপরিবারে ঢাকায় বসবাস করত। তার পিতার মৃত্যুর পর তারা গ্রামের বাড়ি চলে যায়। তারা তিন বোন এক ভাই। ভাইবোনদের মধ্যে ধৃত কামরুল সর্ব কনিষ্ঠ। সে নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি স্কুল হতে বিজ্ঞান বিভাগ হতে এসএসসি এবং একটি কলেজ হতে এইচএসসি পাশ করে। ২০০৫ সালে সে ঢাকার একটি কলেজে একাউন্টিং সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি হয়।
সে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের সাথে যুক্ত ছিল। ২০১১ সালে সে তার সহপাঠীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ২০১৩ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে ফিরে এসে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় সে তার স্ত্রীর সাথে বসবাস করতে শুরু করে। এ সময় সে জীবিকার সন্ধানে বিভিন্ন জনের সাথে যোগাযোগ করতে থাকে। প্রথমে সে ছদ্মনামে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করে।

এরপর তার সাথে প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের মূলহোতা জনৈক খোকন ও সোহেলের সাথে পরিচয় হয়। তারা তাকে প্রলুব্ধ করে যে, প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে সে ঘরে বসেই প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবে। এভাবে সে ২০১৪ সাল হতে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের নামে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নিকট প্রশ্ন বিক্রি করে পঞ্চাশ লক্ষাধিক টাকা উপার্জন করে। উক্ত অবৈধ উপার্জন দিয়ে সে কক্সবাজার সদর এলাকায় হোটেল ব্যবসা চালু করে।
করোনা মহামারীর লকডাউনের সময় লোকসানের কারণে উক্ত ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে তার দৃশ্যমান কোন পেশা নেই।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীকে নবীনগর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট