
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
চন্দনাইশ প্রতিনিধি:-
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সমর্থন প্রদানের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ, সম্ভাব্য প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বিএনপির প্রার্থী যাচাই-বাছাই কমিটির জরুরি সভা ও সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বরকল ইউনিয়নের সুচিয়া এলাকার শিবলু কনভেনশন সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি ঘোষিত পাঁচ সদস্যের প্রার্থী যাচাই-বাছাই কমিটি এ আয়োজন করে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মোজাম্মেল হক বেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় যাচাই-বাছাই কমিটির চার সদস্য মোজাম্মেল হক বেলাল, মো. জসীম উদ্দিন, মো. ইখতিয়ার হোসেন ও খন্দকার হেলাল উদ্দিন সিআইপি উপস্থিত ছিলেন। কমিটির অপর সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী বিদেশে অবস্থান করায় সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি।
সভায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় সমর্থন প্রদানের ক্ষেত্রে করণীয়, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় এবং পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় চন্দনাইশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন থেকে আগ্রহী দলীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে অংশ নেন। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ নেতাকর্মী, সমর্থক ও সম্ভাব্য প্রার্থী মিছিল ও শোডাউন নিয়ে সভায় যোগ দেন। এছাড়া উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এ.কে.এম. মোজাম্মেল হক, শহিদুর রহমান খান, জহির উদ্দিন শহীদ, মোরশেদুল আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনজুর আলম তালুকদার, যুবদল নেতা আবদুল মজিদ শাহ ও সেলিম আল দ্বীনসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, আগামী নির্বাচনে কোনো ধরনের ‘হাইব্রিড’ বা নব্য বিএনপির নেতাকর্মীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। বিগত ১৭ বছর ধরে যারা জেল-জুলুম, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমন ত্যাগী, যোগ্য ও দলের প্রতি অনুগত নেতাদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানান তারা।
যাচাই-বাছাই কমিটির নেতারা বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বিজয়ী করতে সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
সভা শেষে ২০০-এর অধিক নেতাকর্মী এবং ৮টি ইউনিয়নে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রায় ১০০ জন প্রার্থীর মধ্যে আবেদন ফরম বিতরণ করা হয়। পূরণ করা আবেদন ফরম আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে চন্দনাইশ সদরস্থ ‘নুরুল আনোয়ার মার্কেট’-এ অবস্থিত বিএনপির অস্থায়ী নির্বাচনি কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে জেলা বিএনপি ঘোষিত পাঁচ সদস্যের যাচাই-বাছাই কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের অনুসারী ও সমর্থকদের একটি বড় অংশ সভার কার্যক্রম বর্জন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর ফলে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে বিভক্তির বিষয়টি দৃশ্যমান হয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহিদুর রহমান খান, মাহাবুবুল করিম সোহেল, মুজিবুর রহমান, আবদুল মজিদ শাহ, জহুরুল আলম শহীদ, মোরশেদুল আলম, অলি হোসেন মুন্সি, আবুল কালাম মোনায়েম খাঁন, কামরুল ইসলাম, সরোয়ার হোসেন, নাজিম উদ্দিন, মাসুদ, সেলিম আল দ্বীন, সোলাইমান, জে. এইচ. সেলিম, হামিদুল হক, আলমগীর, নাজিম উদ্দীন, ফারুক খান, রাজীব চৌধুরী ও লোকমান উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
Leave a Reply